যে কারণে সীমান্তে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ

অনলাইন ডেক্স।।

131
নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ভারত সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক। ভারতে নাগরিকত্ব নিয়ে চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশ থেকে যেনো কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উস্কানি দিতে না পারে সেজন্য নেটওয়ার্ক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, সাময়িক সময়ের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বিটিআরসির এ উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। তারা নেটওয়ার্ক বন্ধের যৌক্তিক কারণ জানতে চেয়েছে বিটিআরসির কাছে।
সোমবার রাতে ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক কভারেজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। নির্দেশনার পরপরই নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ করে দেয় সবক’টি অপারেটর। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সীমান্ত এলাকার প্রায় কোটি গ্রাহক।
গ্রামীণফোন, টেলিটক, রবি এবং বাংলালিংকের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ বন্ধ রাখতে হবে। নির্দেশনার কারণ হিসেবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে বিটিআরসি এ নির্দেশনা দিয়েছে। কতদিনের জন্য নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হবে এ প্রশ্নে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, সাময়িক সময়ের জন্য এ নির্দেশনা। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকবে না। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কি ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতকিছু আসলে বলা যাবে না।
এদিকে বিটিআরসির নির্দেশনার কড়া সমালোচনা করেছেন মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কোন রকম নীরিক্ষা ছাড়াই বিটিআরসি সবগুলো অপারেটরের বিটিএস(টাওয়ার) ঢালাওভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত সীমান্ত ঘেষে সবগুলো অপারেটরের প্রায় ৪৫০টি বিটিএস রয়েছে। এসব বিটিএস সীমান্তের ওপারে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত কাভারেজ দেয়।
বিটিআরসি এসব বিটিএস বন্ধ করেছে। অন্যদিকে ভারতের যেসব মোবাইল অপারেটরের বিটিএস রয়েছে সেগুলো বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার কাভারেজ দেয়। সেসব বিটিএস কিন্ত বন্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন, বিটিআরসি একটি স্বাধীন কমিশন। অথচ তারা এসব নীরিক্ষা না করেই সবগুলো বিটিএস বন্ধ করার নির্দেশনা দিলো।
এতে প্রায় এক কোটি গ্রাহক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। তাদের কাছে কোন বিকল্পও নেই। যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু একপক্ষীয় নয়। দ্বিপক্ষীয়। সীমান্ত ঘেঁষা রৌমারি, কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করে প্রায় সব এলাকায় ভারতের রিলায়েন্স কোম্পানির সিম বাংলাদেশে চালু রয়েছে। ওইসব এলাকায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে তাদের সিম। অতীতে আমরা লিখিতভাবে বিটিআরসিকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছি। কিন্তু শোনেনি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে প্রায় ৩২টি জেলা রয়েছে।
মোবাইল অপারেটররা জানিয়েছেন,অতীতে সীমান্ত এলাকায় কিছু কিছু বিটিএস বন্ধের নির্দেশনা পেয়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু এবার ঢালাওভাবে টাওয়ারে নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা জানান, সোমবার থেকেই বিটিআরসির নির্দেশনা মানা হচ্ছে। সবগুলো বিটিএসের নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। বুধবারের মধ্যে হয়তো সম্ভব হবে।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!