রুপবাবুর জমিদারী

কালীপদ দেবনাথ

557

শুক্রবার মানেইতো ছুটির দিন।অদেখা ও অজানাকে দেখার ও জানার দিন।কত মানুষ ঘরবন্দী পরিবারপরিজনকে নিয়ে ব্যস্ততায় অজানাকে দেখা থেকে বঞ্চিত।আমার ঘরসংসার এর তোয়াক্কা নেই।ইদানীং ব্যাপারটা একদম অন্যমাত্রায়,একটা শুক্রবারও নষ্ট করা সমীচীন নয়। নান্টুর ঘরসংসার থেকেও বহিমিয়ান।নান্টু থাকলে ভ্রমণের সমস্ত ভার তার উপর ন্যস্ত করে নিরাপদ থাকা যায়।

গতরাতে তিতাস-মুরাদনগর দুটিস্থানের কথা বললাম।নান্টু মুরাদনগরেই সম্মতি জানালো।আমাদের অনুসন্ধ্যানের চিরবন্ধু নান্টুর বাইক নিয়ে রওনা হলাম।কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্য আমরা যতটুক জানি, নাইকটিও কোন অংশে কম জানেনা।

কুমিল্লা থেকে মুরাদনগরের রাস্তা বর্ণনার কিছু নেই,ইতিমধ্যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে।কোম্পানীগঞ্জ থেকে বাখরনগর হয়ে বাঙ্গরার দিকে যাত্রা শুরু করলাম।আমাদের আজকের অভীষ্ট লক্ষ্য রুপবাবুর জমিদারবাড়ি। রুপবাবুর জমিদার বাড়িরর তথ্য দেবীপ্রসাদ মজুমদার দাদার নিকট থেকে পাওয়া।দেবীপ্রসাদ মজুমদার ঢাকায় থাকেন।অত্যন্ত স্বজ্জন ও প্রগতিশীল মনমানসিকতার ভদ্রলোক।বরাবর আমার ইতিহাস ঐতিহ্যমূলক পোস্টে উনার ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যায়।

কোম্পানীগঞ্জ থেকে বাঙ্গরা বাজার বিশ মিনিটের পথ।পথেপথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে।বর্ষার শেষে শরত মৌসুম,জলাতে মাছ ধরার ধুম লাগে।চাই বা আন্তা দিয়ে মাছ শিকার একটা অন্যতম দিক।আন্তা ব্যবসায়ীরা পথের ধারে নানা আকৃতির আন্তার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন।ছোটবড়মাঝারি নানা আকৃতির আন্তা সুন্দরভাবে সজ্জিত,দেখে খুব ভাল লাগে।

আমাদের জমিদার বাড়ির পথ জানা নেই,আমাদের সেহুতু বিড়ম্বনা পেতে হবে,সেটাই স্বাভাবিক।বিড়ম্বনা পোহাতেপোহাতে রুপবাবুর জমিদারীর সীমানার কাছাকাছি আসলাম।
পুকুরঘাটে একজন অশতীপর বৃদ্ধ বসে আছেন।জমিদার বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে তাবিজ লাগবে কিনা জানতে চাইলেন…

আমরা তাবিজের পক্ষে না উত্তর দিয়ে, জমিদার বাড়ির ঠিকানা চাইলাম।বৃদ্ধ আঙ্গুলের ইশারায় দেখালেন-ঐ বাড়ি।তাকিয়ে দেখি পুরাতন একটা বাড়ি।
বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের মুখেই দুটো শিশু ফুটবল নিয়ে কসরত রত।আমাদের দিকে লক্ষ্য করার সময় নেই।আপনমনে দুটো তিনচার বছরের বাচ্চা ফুটবল খেলছে।বার্সেলোনার আগামীর কাণ্ডারি হবে,যখন মেসি বার্সেলোনায় রবেনা।

পুরাতন একটি দালান,নানা লতানো গাছে ঘেরা।পাশেই লোহার গেট,গেট খুলে প্রবেশ করলাম।

গেটের ভেতর প্রবেশ করলেই প্রথমে নজরে আসে শেওলাঘেরা সাদা দ্বিতল ভবন।বারান্দার দরজা দিয়ে দূর থেকে দেখা গেল একজন বৃদ্ধ শুয়ে আছেন।ভবনের পাশেই একটা মন্দির,মন্দিরের পাশে পরিত্যক্ত একটা দালান।
চারপাশ ঘুরে আবার দ্বিতল ভবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলাম।বারান্দায় কথামণি ছিল,কথামণি তার বাবাকে ডাক দিল।কথামণির বাবা খুব বিরক্ত। আমরা বিরক্ত হলেও জানার ব্যাপারে ছাড় দিতে নারাজ।বাড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে জানালেন তার নিকট কোন তথ্য জানা নেই,তিনি এইস্থানে নতুন আগত।জানতে হলে পাশের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে।
ভগ্নমনোরথ আমরা এইবাড়ি থেকে ও বাড়িতে গেলাম।বের হয়ে এলেন মনোরঞ্জন নট্র।মনোরঞ্জন নট্র গ্রাম পুলিশে কর্মরত।অত্যন্ত চমৎকার সাবলীল ভাবে বাড়ির উত্তরাধিকার ও বর্তমানাধিকারের কথা শুরু করলেন।

স্বর্গীয় ঊমালোচন মজুমদার বাড়ির ভিত্তি স্থাপন করেন।ঊমালোচনের পুত্র রুপেন্দ্রলোচন মজুমদার, রুপেন্দ্রলোচনই রুপবাবু নামে পরিচিত।রুপবাবু অত্র এলাকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন,সবাই তাঁকে প্রেসিডেন্ট বলেই জানে।রুপবাবু ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান,শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়ানুরাগী সমাজসেবী।প্রজাদরদী জমিদার রুপবাবুর জমিদারী প্রজাদের হিতের নিমিত্তেই পরিচালিত হতো।

রুপবাবুর একমাত্র সন্তান মানিকলোচন মজুমদার।তাঁর তিনসন্তান দেবীপ্রসাদ, শ্যামাপ্রসাদ ও শিবুপ্রসাদ মজুমদার।
দেবীপ্রসাদ ও শ্যামাপ্রসাদ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত আর শিবুপ্রসাদ কুমিল্লায় থাকেন।শিবুপ্রসাদ কুমিল্লা পানপট্রি বাঙ্গরা ভবনে বাস করেন,অঞ্চলের নামেই তার বাড়ি পরিচিত।উনাদের বাড়িতে সবসময় আসা হয়না,কোন উঠসব লাগলে সবাই মিলে বাড়িতে আসেন।পূজাপার্বণ কিংবা উঠসবে বাড়িতে আনন্দের ধুম পড়ে,সমগ্র গ্রামবাসী আনন্দে মাতে।

প্রমোদ নট্র ছিলেন জমিদার বাড়ির ঢুলি,জীবনঢুলির কথা মনে পড়ে।জীবনঢুলি ছবিতে জীবন ঢুলি যেমন করে দূর্গাপূজায় ঢোল বাজিয়েছিল সে চিত্রটা আমার চোখে ভেসে উঠলো।প্রমোদ নট্রের পুত্র মনোরঞ্জন নট্র।গ্রামপুলিশে চাকুরীর পাশাপাশি কৃষিকাজ ও ব্যান্ডপার্টির সাথে যুক্ত।নারায়ন মন্দিরে বড় আয়োজন করে পূজা হয়,মনোরঞ্জন নট্র তখন বাজনা বাজান।

মনোরঞ্জনদা বাড়ির চারপাশ চিনিয়ে দিচ্ছেন, সাথে তাদের মহানকীর্তির বর্ণনা দিচ্ছেন।
সাদাদালানে সবুজশেওলার দ্বিতল ভবনটি রুপবাবুর বাসভবন ছিল।পাশেই নারায়ন মন্দির যেখানে সারাবছর আগে কোন না কোন পূজা লেগে থাকতো।বাড়ির লোকেরা সকাল সন্ধ্যা ধুপ জ্বালাতো,উলুধ্বনি দিত।তারপাশেই কাচারি ঘর,যা লতাপাতায় ঢাকা পড়ে আছে।

ঐদূরে হাত দিয়ে ইশারা করলেন,ঐপাশটায় হতো প্রতিদিন বড়সর ভোজনপর্ব।প্রতিদিন শদুয়েক মানুষের রান্না হতো।মুরাদনগরের নয়টি গ্রামের রাজা ছিলেন রুপবাবু,রাজার অধিনস্ত প্রজা প্রমোদনট্ররা।

প্রজাদের জন্য রুপবাবু অনেকগুলো ছোটবড় দীঘি খনন করেন।বাড়ির দুইপাশে আছে দুটো দীঘি।বাড়ির অভ্যন্তরে শানবাঁধানো ঘাটের একটা দীঘি।শানবাঁধানো ঘাটে কী সুন্দর কারুকার্য,একটা নামফলক ছিল”শান্তসাগর”.নামফলকটি এখন আর নেই।

অত্রাঞ্চলের মাঝিয়েরা আপন মনে গৃহস্থলির জিনিসপত্র ধৌতকার্যে ব্যস্ত।গ্রামের পুকুর যথারীতি গাছপালা ঘেরা শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ,শান্তসাগর নামটি যথার্থ।
পুকুরপাড় থেকে একটু গেলেই বাড়ির স্নানাগার ও শৌচাগার,দূটোই এখন পরিত্যক্ত।গাছপালায় ঘেরা সারা এলাকায় আরো অনেক নিদর্শন দেখা যায়,যা কালের গহব্বরে হারিয়ে যায়।
রুপবাবু অত্যন্ত শিক্ষানুরাগী ছিলেন।তাঁর পিতা ঊমালোচন এর নামে ১৮৮৫সালে ঊমালোচন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।বিদ্যালয়ের গঠনরীতি ইশ্বরপাঠশালা স্কুলের অনুরুপ।১৩৫বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত বিদ্যালয় সারাবাংলাদেশের অন্যতম পুরাতন স্থাপনা।বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সংস্কৃতিচর্চা অন্যতম ঈর্ষান্বিত। পুরাতন দালানের পাশাপাশি নতুন কয়েকটা ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে ইতিমধ্যে।মাধবীলতা ও নানারকম ফুলের গাছে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের সামনের দিকটা মনোমুগ্ধকর। স্কুলগেটের সামনেই বিশালমাঠ।মাঠে বসার অতিথি কিংবা দর্শকদের বসার জন্য সিঁড়ি করে দেয়া।বাঙ্গরা এলাকার ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো এইমাঠেই আয়োজিত হয়।

বাঙ্গরা পুলিশথানা,ডাকবাংলো,বাজারে অবস্থিত অগ্রণীব্যাংকের জায়গাটি রুপবাবুর দান করা,তাই এইবাজারের নাম রুপবাবুর বাঙ্গরা বাজার। মানুষ মরে গেলেও হাজারহাজার বছর ধরে তাঁর কীর্তি ও সুনাম থাকে।কীর্তি থাকে তাঁদেরই যারা মানুষের কথা ভাবে, মানুষের জন্য করেন।রুপবাবু ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি তখনকার সময়ে তাঁর অঞ্চলের জনগনের চিকিৎসাসেবার কথা গভীরভাবে ভাবতেন।তাঁর মাতা শান্তমণি দেবীর নামে দাতব্যচিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন।১৯০০সালে স্থাপিত বাঙ্গরা শান্তমণি দাতব্য চিকিৎসালয়ের পুরাতন ভবন এখন পরিত্যক্ত হলেও নতুনভবন করে সমগ্র বাঙ্গরাবাসীর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

মনোরঞ্জন নট্রের সুন্দরকথাবার্তায় হৃষ্টপুষ্ট হয়ে তাঁদের কীর্তি দেখেশুনে মন ভরে গেল।মন ভরলো নট্রের নাটকীয় ধন্যবাদ দেয়ার স্টাইলে।এমন মনোরঞ্জন দাদা থাকলে ইতিহাস জানা সহজ হয়।

আমার জানা ছিলনা দেবীপ্রসাদ দাদার নিজের বাড়ী,দাদা অমায়িক মানুষ।আমাকে কখনো বলেননি আমারই বাড়ী,জেনে দাদাকে ফেসবুকে নক দিয়ে রাতে দাদার সাথে বিস্তারির আলাপ হলো।দাদার থেকে জানা গেল আরো অনেক অজানা ইতিহাস।

এইবংশের পুর্বপুরুষ রামনাথ মজুমদার নবাব আলীবর্দি খাঁর সময়ে মুর্শিদাবাদে বিশেষ প্রতিপত্তি লাভ করেছিলেন এবং তাঁহাদের মজুমদার উপাধি সেসময় থেকে প্রচলিত।
তখন বর্গীদের অত্যাচারের সময় তিনি তাঁহার পূর্বনিবাস মুর্শিদাবাদ হতে তাঁহার পুরোহিত বর্তমান চাপিতলার ভট্রাচার্য ও শ্যামগ্রাম রায় পরিবারের পূর্বপুরুষসহ পূর্ববঙ্গে চলে আসেন।
জিলার নবীনগর থানাধীন দীর্ঘসাই গ্রামে ববসবাস শুরু করেন।সেখানে কিছুকাল বসবাসের পর চাঁপিতলার গ্রামে স্থায়ীবাস শুরু করেন।
রামনাথ মজুমদারের তিনপুত্র রাঘবরাম,রত্নেশ্বর,ও জানকীবল্লভ। কনিষ্ঠপুত্র জানকীবল্লভের পুত্র ও প্রপৌত্রগণ চাপিতলা গ্রামে বিশেষ সমৃদ্ধি সম্মন্ন হন এবং তাঁহার পুত্র রামসন্তোষ নামীর তালুক অদ্যাবধি বর্তমান আছে।কিন্তু দুখের বিষয় তাঁহার বংশ বর্তমানে লুপ্ত।

রামনাথের জেষ্ঠপুত্র রাঘবরামের পৌত্র দূর্গারাম ও মধ্যমপুত্র রত্নেশ্বর পৌত্র ভুবনেশ্বর পুর্বোক্ত চাপিতলা হইতে বাঙ্গরা গ্রামে আসেন।এখানে এসে তখনকার জমিদার মীর আশরাফ আলী, মীর বাখর ও মীর্জা হোসেন আলীর সাহেবের দরবারে বিশেষ স্থান পান।মীর্জা আলী হোসেন ছিলেন অত্যন্ত অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার।প্রায় আড়াইশ বছরপূর্বে তাঁদের দেয়া দত্ত ব্রম্মোত্তর সনদের উপরিভাগে শ্রীশ্রী কালীভরসা কথাটি লিখা ছিল।মীর্জা হোসেন আলীসাহেবের স্বহস্তে বাংলাহরফে দস্তখত সনদটি এখনো আছে,আরো অনেক দলিলাদি তাঁদের সম্ভারে আছে।

রাঘবরামের পৌত্র দূর্গারামের চারিপুত্র তন্মধ্যে দ্বিতীয়পুত্র রামনাথ এককন্যা রাখিয়া পরলোক গমন করেন।চতুর্থপুত্র ভরসারামের কোন সন্তানসন্ততি ছিলনা।দূর্গারামের তৃতীয়পুত্র রামপ্রসাদ মজুমদার মহাশয় সদাশয় মহাশয় ছিলেন পরোপকারী ও নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ।তাঁর সদাশয়তা ও ঔদার্যগুণে তাঁকে সবাই দেবতাজ্ঞানে ভক্তি করতো।রামপ্রসাদ দুইপুত্র রেখে মারা যান।জেষ্ঠ্যপুত্র রামলোচন ত্রিপুরারাজার রাজ্যে সেরেস্তাদারের চাকরি করতেন এবং কনিষ্ঠপুত্র স্বর্গীয় পদ্মলোচন মজুমদার।ঊমালোচন তাঁদেরই সন্তান।
তাঁর দুইপুত্র উপেন্দ্রলোচন ও রুপেন্দ্রলোচন। উপেন্দ্রলোচন রুপবাবুর বড়ভাই। উপেন্দ্রলোচন রানীর পাঠানো “কাইজার -ঈ-হিন্দ”সম্মাননায় অভিষিক্ত হন।দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধ কালে সবিশেষ অবদানের জন্যন্য তাঁকে এ উপাধি দেয়া হয়।সেই সময় জমিদারদের জন্য ব্যবহৃত কালো ভক্সওয়ানটি বৃটিশ সেনাসদস্যদের জন্য চেয়ে নেওয়া হয় ও যুদ্ধশেষে ভাঙা অবস্থায় ফেরত দেয়া হয়।

বিদ্রোহীকবি কাজীনজরুল ইসলাম তাঁদের আতিথেয়তা ভোগ করেন।
দেবীপ্রসাদ থেকে আরো জানা যায়-জমিদারীর পরবর্তীকালে বাড়ীর ভৌতকাঠামোতে অনেক পরিবর্তন আসে।তবুও সময়ের সাক্ষী সময় নিজে।
আট বেহারা পালকী (এখন সোনারগাঁ লোকশিল্প যাদুঘরে),কাচারিঘরের পশ্চিমে গ্যারেজ এ ভাঙা কালো ভক্সওয়ান ২বিশ্বযুদ্ধকালে রিকুইজিশন করে নেয়, পরবর্তীতে ফেরর দেয়া হয়।
আগে ছিল ছয়টা পুকুর, ১৬টা চৌচালা টিনের ঘর,৪টা উঠান,৬টা বাগান,১টা নাটমন্দির ও একটি আটচালা,৩টা ঠাকুরঘর,৩টা পাকেরঘর,১টা এল আকৃতির খাবার ঘর,তোষাখানা,খাজাঞ্চিখানা, বোর্ডিংঘর,৩টা ভাড়ার,১টা চাঘর,গাড়ি ধোওয়ানোর পাঁকা রেলিংযুক্ত ঘাটবাধানো পুকুর,হাতী বাধার জন্য খালপাড়,রেললাইনের ভাঙা লোহার রেইল,ঘোড়াদৌড়ানোর মাঠ,বাক্সভর্তি মেডেল, আর তিনটা লাইসেন্স করা বন্দুক।

রায়বাহাদুর রুপেন্দ্রলোচন -স্বনামে পরিচিত।রায় উপাধি বিশেষ স্বীকৃতিস্বরুপ পেলেও তিনি তা ব্যবহার করতেন না।বাঙ্গরা ঊমালোচন বিদ্যালয়ের প্রাণপ্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং নিজে তখনকার সময়ে শিক্ষকদের সম্মানিভাতা নির্বাহ করতেন।বাজারের অগ্রণীব্যাংকের শাখা ও বাজার রুপবাবুর নামে পরিচিত।
এতশত গল্প শুনে আমি যেন তখনকার সময়ে হারিয়ে যাই,চোখের সামনে ভেসে উঠে রুপবাবুর সময়কার স্মৃতি।
সবশেষে ধন্যবাদ জানিয়ে দাদা থেকে বিদায় নিলাম,দাদাও কত অমায়িক।
যাওয়ার উপায়-কুমিল্লা থেকে বাসে কোম্পানীগঞ্জ,সেখান থেকে সিনজিতে বাঙ্গরা বাজার।
বাজার থেকে দশমিনিট হাঁটলেই তাঁদের কীর্তি দেখে দেখে রুপবাবুর জমিদারবাড়ি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!