শেখ হাসিনা আছেন মানুষের হৃদয়ে

35
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করছে দেশবাসী। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায় রচনা করে কতিপয় জঘন্য এবং বিপদগামী সেনা সদস্য। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ইতিহাসে আজীবন ঘৃনীত হয়ে থাকবে।
সেই কালো রাতে বিদেশে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। পরে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ভারত হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। লাখো জনতা সেদিন অভ্যর্থনা জানায় গনতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনাকে। সেদিন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর জন্য শুধুমাত্র বিমানবন্দরেই উপস্থিত হয় ১৫ লক্ষ্য মানুষ। ১৯৮১ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯০ এর গণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয় এবং বিজয় হয় গণতন্ত্রের। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে মোট চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয় শেখ হাসিনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। ছিলেন রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও। শিক্ষা জীবন থেকেই শেখ হাসিনা গণ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিরোধী শক্তি কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রত্যেকবারই প্রাণে বেঁচে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাব জেলে পাঠায়। প্রায় ১ বছর পর ২০০৭ সালের ১৯ জুন তিনি মুক্তি লাভ করেন।
গণতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনা মিয়ানমার সামরিক সরকারের হাতে নির্যাতিন এবং বিতাড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করে সৃষ্টি করেছেন মানবতার এক অনন্য উদাহরণ। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিচ্ছে। সমুদ্র বিজয় শেখ হাসিনার অন্যতম সাফল্য। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২১ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে মহৎ উদ্দেশ্য তা সমৃদ্ধ করেছে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায়। যা বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কল্পনা করা যেত না।
কিছু দিনের মধ্যেই পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এর মত বড় বড় প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন দেখবে এ দেশের জনগন। ডেল্টা প্ল্যান, ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন কেবল মাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব বলে এদেশের জনগণ ইতিমধ্যে বিশ্বাস এবং আস্থা স্থাপন করে ফেলেছে। শিক্ষাখাতে যে পরিবর্তন বাংলাদেশে ঘটেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন। অর্থাৎ সার্বিক উন্নয়ন বলতে যা বুঝায় শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন। পরিশেষে বলা যায়, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মানুষের হৃদয় মন্দিরে সহস্র শতাব্দি ধরে বেঁচে থাকবে নিজ কর্মগুণে।
লেখক: মো: মতিউর রহমান,
সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)।
আরো পড়ুনঃ