শৈলকুপায় নিখোঁজ সুজনকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা

65

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আউশিয়া গ্রামে নিখোঁজের ৪ দিন পর সুজন হোসেন (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই গ্রামের একটি সেচ পাম্পের ঘর থেকে মাটিচাপা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সুজন হোসেন আউশিয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জিলল্লুর রহমানের ছেলে।

সুজনের চাচা রফিকুল ইসলাম রবি জানান গত রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে সার কেনার জন্য শৈলকুপা বাজারে যায় সুজন হোসেন। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাকিব ও নাজমুল নামে দুই জনকে আটক করে। পরে হৃদয় নামে আরো একজন কে আটক করা হয়।

তার দেয়া তথ্য মতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিছু কিশোর এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। টাকার জন্য এ ঘটনা ঘটাতে পারে। নিহতের ভগ্নিপতি কুষ্টিয়ার ধরমপাড়া গ্রামের মেরাজ উদ্দীন জানান, শৈলকুপার হাজামপাড়ার রাকিব নামের এক যুবকের কাছে সুজন টাকা পেত। রোববার বিকেলে শৈলকুপা বাজারে সার কেনার সময় রাকিবের ছোট ভাই সাকিব টাকা দেয়ার কথা বলে মোটর সাইকেল যোগে সুজনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল সুজন। ঘটনার পর থেকে সাকিব ও তার পরিবার পরিজন পলাতক রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুল বলেন, নিহত সুজন হোসেনের বাবা জিল্লুর রহমান ১৫ বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকেন। তিনি যে টাকা পাঠাতেন, তার সব এই ছেলের কাছেই থাকত। সুজন তা বন্ধুদের মাধ্যমে নানা ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন। এর মধ্যে সাকিবের মাধ্যমে কিছু টাকা সুজন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সম্প্রতি রেলের চাকরির জন্য সুজন একজনকে দুই লাখ টাকা দেয়। আরও পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। সেই টাকাও সুজন জোগাড় করে রেখেছিলেন বলে সাকিবসহ অন্য বন্ধুরা জানতেন। এই টাকার জন্য বন্ধুরা সুজনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, সুজন তাঁর মা সেলিনা খাতুনকে নিয়ে গ্রামেই থাকতেন। তাঁর একমাত্র বোন নাসরিনের বিয়ে হয়েছে। সুজনদের বাড়ি আউশিয়া গ্রামে আর গ্রেপ্তার হওয়া সাকিব, নাজমুল ও হৃদয়ের বাড়ি হাজামপাড়ায়। গ্রাম পৃথক হলেও তাঁদের সবার বাড়ি খুব কাছাকাছিই। সাকিব কখনো বিদ্যুতের কাজ করে, কখনো শ্যালো মেশিনের কাজ করে। নাজমুলও আগে পড়ালেখার পাট চুকিয়ে বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতো। আর হৃদয় কুষ্টিয়ার একটি কলেজে পড়তো।

সুজনের চাচা শফিকুল ইসলাম বলেন, বছরখানেক হলো সুজনের সঙ্গে এই তিনজনের বন্ধুত্ব হতে দেখছেন তিনি। তিনি শুনেছেন মোবাইল ফোনের স‚ত্রে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে তাঁদের প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতে দেখতেন তিনি।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের আর দশটা তরুণ যেভাবে চলাফেরা– বন্ধুত্ব করেন, তাঁরাও তেমনি ছিলো। বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনায় এই গ্রামের ছেলেরা দুদিন আগে গর্ত করে রেখেছিলো, তা ভেবেই এখন গায়ে কাঁটা দেয়ার জোগাড়।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতকিলিং মিশনে কিশোর গ্যাং জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!