সংসার চলে কুঁইচা মাছ ধরে

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

208

বাঁশের তৈরী বিশেষ রকমের চোঙ্গা। অনেকটা আন্তা বা চাইয়ের মত। চোঙ্গাগুলোর ভেতরে কেঁচো গেথে দেয়া হয়। বিকেলে বা সন্ধ্যার আগে হাটু সমান বা তার একটু বেশী পানিতে চোঙ্গাগুলো ডুবিয়ে দেয়া হয়। ভোরে চোঙ্গাগুলো পানি থেকে তুলে আনা হয়। প্রতিটি চোঙ্গাতে কুইচা মাছ ধরা পড়ে। দেখতে অনেকটা বাইম মাছের মত। স্থানীয়রা কুইচ্চা নামেই চিনে। এমন কুইচা মাছ বিক্রি করেই সংসার চলে মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা এলাকার হারিপদ দাসের।

কথা হয় হারিপদ দাসের সাথে। তিনি জানান, বর্ষাকালে মুরাদনগরের আশেপাশে বেশ পানি জমে। এমন পানিতে কুইচা মাছের আনাগোনা বাড়ে। এ সময় সহজেই আন্তা দিয়ে কুইচা মাছ ধরা যায়। হারিপদ দাস জানান, প্রথমে মাটি খুঁড়ে কেচো বের করি। তারপর বাঁশের চোঙ্গায় কেঁচো গেথে দেই। তার ষাটটা আন্তা বা চোঙ্গা রয়েছে। চোঙ্গায় একটা কখনো বা দু’ টা করে কুইচা মাছ ধরা পড়ে। প্রতি রাতে গড়ে ২৫-৩০ টা কুইচা মাছ ধরা পড়ে। এমন ২৫-৩০ টা কুইচা মাছ ওজনে ৩ কেজী বা চার কেজী হয়। প্রতি কেজি ১শ টাকা বিক্রি করেন। প্রতি রাতের কুইচা মাছে হারিপদ দাসের আয় হয় ৩/৪ শ টাকা। এ টাকা দিয়েই দু’ছেলে দু’মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে ৬ সদস্যর সংসার চলে।

বাজারে কুইচা মাছের চাহিদা কেমন। এমন প্রশ্নর জবাবে হারিপদ দাস জানান, স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম। তবে ঢাকায় কুইচা মাছের চাহিদা বেশী। শুনেছি ঢাকা থেকে নাকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয় কুইচা মাছ। তবে ঢাকায় কেজী প্রতি আড়াই’শ থেকে তিন টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও অনেক কবিরাজ কুইচা মাছ দিয়ে নানান জটিল রোগের ঔষধ তৈরী করেন বলেও জানা যায়।

পানি চলে গেলে কি করেন। এমন প্রশ্নের উত্তরে হারিপদ দাস জানান, আমি ভাই খেটে খাওয়া মানুষ। যখন যে মৌসুম আসে সেই কাজ করি। শুকনো মরসুমে কখনো দূর গ্রামে মাটি কাটি। কখনো কারো খেতে কামলা খাটি। কথাগুলো বলতে বলতে বিকেল হয়ে যায়। হারিপদের মাথায় চিন্তা। বাঁশের চোঙ্গা পানিতে ফেলতে হবে। ষাটটা চোঙ্গা কাঁধে তুলে নিয়ে বিলের দিকে হাটতে থাকে। পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যায়। বিলের পানিতে সন্ধ্যা নামে। একটার পর একটা চোঙ্গা পানিতে ডুবিয়ে দেয় হারিপদ। এখন যে মাছ ধরার মরসুম। এই পানিতেই আহার খুঁজেন হারিপদ। সন্ধ্যায় যেখান থেকে শুরু করেছেন সকালে হয়তো সেখান থেকে আবার শুরু করবেন। এই সংসারে যে রয়েছে স্ত্রী সন্তান।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!