সরাকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা ব্যস্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিসে; স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

45
ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার চিকিৎসা সেবা। সরকারি বিধি অনুসারে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আড়াই পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালের বহি:বিভাগে ডাক্তারদের অবস্থান করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও কুমিল্লার জেলার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন নিয়ম। তাদের তৈরী করা মনগড়া নিজস্ব নিয়মেই চলছে ওই হাসপাতালটি।
এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির একাধিক সদস্য সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে সত্যতা পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিগত ৩ বছর যাবৎ ভিন্ন আইনে চলে আসা এ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার এখন বেহাল দশা। সকাল সাড়ে ১০টার আগে প্রাইভেট প্র্যাকটিস ছেড়ে কর্মস্থলে আসেন না অধিকাংশ ডাক্তার। ৩ বছর আগে ওই হাসপাতালে যোগদান করা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্মস্থলে রাত্রি যাপন না করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পাশ^বর্তী চান্দিনা উপজেলা সদরে অবস্থান করে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র গুলিতে মেডিকেল অফিসার থাকলেও ওরা অধিকাংশ সময় উপজেলা সদরেই প্রইিভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। এসব অনিয়মের কারণে সেখানকার রোগীরা কাংখিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ উপজেলা দেবিদ্বার। একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন অধ্যুষিত এ উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখেরও অধিক। উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দেবিদ্বার ছাড়াও পাশ^বর্তী মুরাদনগর, নবীনগর ও ব্রাহ্মণপাড়ার অনেক লোক প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু ওই হাসপাতালেরই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আহাম্মদ কবীর পাশ^বর্তী চান্দিনা উপজেলা সদরে সকাল-বিকাল- রাতে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবিদ্বারে যোগদান করেছেন ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি। এছাড়াও ওই উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকাংশ মেডিকেল অফিসারও প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকায় রোগীরা কাংখিত সেবা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসারও রাতে থাকেন না কর্মস্থলে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলা সদরের ওই ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিনই প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যা না পেয়ে অনেকেই ফ্লোরে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। এছাড়াও বহি:বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৬ শতাধিক লোক চিকিৎসা নিতে আসেন। গত (১৮ মার্চ) বুধবার দুপুরে ওই হাসপাতালে নারী ও শিশুসহ ৭৮ জন ভর্তি ছিল। দীর্ঘ দিন যাবৎ হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও ওই উপজেলা হাসপাতাল এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মেডিকেল অফিসারগণও নিয়মিত কর্মস্থলে না গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকায় রোগীরা কাংখিত সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আহাম্মদ কবীর কর্মস্থলে না থেকে প্রতি দিন ১৫ কি: মি: দূরে চান্দিনায় গিয়ে অবস্থান করে প্রাইভেট প্র্যাকিটিস করেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা: মো: নয়িাতুজ্জামান বলেন, এটা সম্ভব নয়, হওয়ার কথাও নয়, আমার নিকট থেকে ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলের বাহিরে অবস্থান করার বিধান নেই। এছাড়াও সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আড়াই পর্যন্ত ডাক্তারদের হাসপাতালে বহি:বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহাম্মেদ কবীর জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়াটারে থাকার পরিবেশ নেই, তাই চান্দিনায় থাকি। এটার একটি বিধান তো আছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আনিকা –হাসপাতালের কোয়াটারে না থাকার বিষয়ে তিনি একই যুক্তি দেখিয়ে বলেন, পরিবেশ ভাল নেই, তাই আরএমও কোয়াটারে থাকেন না। অপর দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ মেডিকেল অফিসার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলিতে মেডিকেল অফিসারগণ নিয়মিত/সময়মতো কর্মস্থলে না গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থেকে কেউ কেউ সকাল ১০টার পর কেউবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে না গিয়েই সদরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকার বিষয়ে তিনি (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িযে যান।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘আমি একাধিকবার হাসপাতালে গিয়ে সময় মতো কাউকে কর্মস্থলে পাইনি। পরে তাদের (ডাক্তার) সাথে বৈঠককালে তাদের বক্তব্য ছিল এভাবেই নাকি সারা দেশের হাসপাতাল চলে, তারাও চালাচ্ছে, কিন্তু ডাক্তারদের এমন মানসিকতা পরিবর্তন জরুরী।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাকিব হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, এখনই খোঁজ-খবর নেব।
আরো পড়ুনঃ