সাতকানিয়া পৌর নির্বাচনে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে চায়

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)

628

ডিসেম্বরে সারাদেশে প্রায় ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট করার জন্য কমিশন অনুমতি দিয়েছে। পৌরসভা ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান পরিষদের মেয়র, নির্বাচন আয়োজনে কোনো জটিলতা আছে কি না এসব সার্বিক তথধ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। মেয়র এইচ.এস.সি. পাশ হতে হবে ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এস.এস.সি. পাশ হতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর ছড়ালেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়।

আর তাই এবার চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পৌর নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রামের সন্দীপ, বাশঁখালি, পটিয়া, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বারৈয়ার হাট, মিরসরাই আর সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচন চূড়ান্ত। একটি ১ম শ্রেনীর পৌরসভার যতপ্রকার সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা নাগরিক জীবনে, তার কোনোটাই নেই। ধুকে ধুকে উন্নয়নের কাজ চলছে। ২০০৩ সালের পর এই পৌরসভাটির মাঝারি অবকাঠামো ঘটেনি। চেয়ারম্যান বা মেয়ররা যা করেছেন তা ছিল সরকারি রুটিন ওয়ার্ক মাত্র। ২০১৫ তে প্রধান দুটি দর মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওতে আওয়ামী লীগের মোঃ জুবায়ের মেয়র নির্বাচিত হন। নিকটতম ছিল বিএনপি প্রার্থী হাজী রফিকুল আলম। এবারও তিনি মেয়র নির্বাচনে চূড়ান্ত মনোভাব গ্রহন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে হাজী রফিকুল আলম বলেন, দলের সিদ্ধান্তে গতবারের নির্বাচনে আমি অংশগ্রহন করেছিলাম। এবারও আশা করছি। দলের হাইকমান্ড তথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়ার নির্দেশনা আর পৃষ্ঠপোসকতা করলে আমি নমিনেটেড হতে পারবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলের হাই কমান্ড আমাকে এবারও নির্বাচনে অংশ নিতে সহযোগিতা করবেন। আর সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে এখানের যেকোনো প্রার্থীকে ডিঙিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবো ইনশাল্লাহ। আর নির্বাচিত মেয়র হলে একানকার পুঞ্জীভূত সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সাতকানিয়া পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো। হাজী রফিকুল আলম সাতকানিয়ার পৌর এলাকার ভোটার। এখানেই তার শিক্ষাজীবন। ছাত্র অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে জাতীয়তাবাদী দলের একনিষ্ঠ নিবেদিত কর্মী বনেছেন। মাস খানেক ১৯৮৭ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিএনপিকে সংগঠিত করেন। ঐসময় জেদ্দা বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে অঙ্গ সঙগঠনগুলোকে আরো বেগবান করে তুলতে তার ভূমিকা দলের কাছে নন্দিত। প্রবাসের পরেও দক্ষিন চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য। অপরদিকে সাতকানিয়া বিএনপির সভাপতি দীর্ঘ ১৫ বছর। তিনি বলেন- এর আগে আমরা সাতকানিয়াতে মাহমুদুর রহমানকে বিদায় করেছিলাম। কিন্তু জনগনের প্রত্যাশা পূরনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ঐ মানুষটি এখন আওয়ামী ঘরানায় যোগ দিয়েছেন নিজের স্বার্থের জন্য। এদিকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটার। এর মাঝে ৩০% নবীন ও তরুন ভোটাররা। আগামীতে হাজী রফিকুল আলমকে নতুন মেয়র হিসাবে নির্বাচিত করতে এখন থেকেই তার পেছনে একাট্টা। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে কামিয়াব করলে এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম, শহরের লাইটপোস্ট আর ডাস্টবিন নির্মানসহ জলাবদ্ধতা নিরসন করবো। পাশাপাশি চিত্ত বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্ক ঝরে পড়্ াপথশিশুদের জন্য গনশিক্ষার ব্যবস্থা চালু করা, আর দুঃস্থ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সবকিছুই হবে পৌরসভার বাজেট আর বরাদ্দের উপর। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পারি জনগনের পাশে থাকবো। অতীতে যেমন তাদের সুখে দুঃখে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো। মাদক সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ উন্নয়নের বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি, আগামীতেও থাকবো। মাদকের প্রভাব থেকে যুবশক্তিকে আমরা মাঠে ক্রীড়াঙ্গনে নিয়ে যেতে চাইবো।

সাতকানিয়া উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ। আর একটি ১ম শ্রেনীর পৌরসভা। পৌরসভা বলতে যা বুঝায় তা সাতকানিয়াতে বিন্দুমাত্র নেই। জনগনের ট্যাক্স কোথায় যায়, কী হয়? এটা কেউ জানেনা। অথচ জনগন কোনো সেবাই পাচ্ছে না। আগামীতে এটা আমি নিশ্চিত করবো। পরিশেষে বলেন, সারাজীবন দলের আদর্শ বহন করছি। সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বানিজ্য করিনি। কোনো গ্রপিংয়ের রাজনীতি করিনাই। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বিএনপি রাজনীতি সচ্ছ ভাবে করে আসছি। কখনো শ্রেনীচ্যুত হয়নাই।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!