সালিশে দুই পক্ষে সংঘর্ষ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫

60

অনলাইন ডেক্স।। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ (৩০) গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কামালকে এনায়েতপুরের একটি ক্লিনিক ও অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সগুনা চৌরাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জোকনালা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী শিক্ষিকা উম্মে জহুরার একটি পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কার করা নিয়ে প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের দ্বন্দ্ব হয়। বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিকেল ৩টায় সালিশ বৈঠক ডাকা হয় জোকনালা বাজারে। এর আগেই রফিকুল ইসলামের পক্ষে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন হাজির হয়।

সালিশ বিলম্ব হওয়ায় তারা প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল নিয়ে ফিরে সগুনা চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে শিক্ষিকা উম্মে জহুরার নিকটাত্মীয় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাসের নেতৃত্বে শতাধিক লোক মোটরসাইকেল তাদের মুখোমুখি হয়। তখন উভয়পক্ষের লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে।

একপর্যায়ে লাজুক বিশ্বাসের পক্ষের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন ও পেটে ক্ষুরের আঘাত নিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। অপরদিকে রেজা গ্রুপের যুবলীগের কর্মী নাজমুলসহ কয়েকজন আহত হন। উভয় মিলে অন্তত ১৫ জনের মতো আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয় উভয় পক্ষের ১০টি মোটরসাইকেল। খবর পেয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামাল আহমেদকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনও আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!