সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার মানহানির অভিযোগ

অন নিউজ।।

137
যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে এবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঐ বিভাগেরই দুই শিক্ষক। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহেরের কাছে এ অভিযোগ দেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাঃ হাবিবুর রহমান ও সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়, এক ছাত্রীর আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদার গত ১৯ জানুয়ারি কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দুইজন শিক্ষককে জড়িয়ে মিথ্যা ও মানহনিকর বক্তব্য উপস্থাপন করায় এর তীব্র নিন্দা জানান। শিক্ষকদের জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদান করায় তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়।
ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদার আমাকে জড়িয়ে পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া সংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগ করেন। যা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মোটেও সত্য নয়। এর ফলে আমি পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। অথচ এ বিভাগীয় প্রধান নিজেই পরীক্ষার নম্বর জালিয়াতির অভিযোগে প্রশাসনিক শাস্তি পেয়েছেন।
অন্য এক অভিযোগ পত্রে সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, আমাদের বিভাগীয় প্রধান গত ১৯ তারিখে সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে ঐ ছাত্রীর সাথে গত ২১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে অনৈতিক, আপত্তিকর ও অশালীন ব্যবহার করি বলে তিনি অভিযোগ করেন। যা আমার জন্য খুবই অনাকাঙ্খিত, বেদনাদায়ক ও অসম্মানজনক। আমি মনে করি, উক্ত ছাত্রীর সাথে যদি আমি কোন অশোভন আচরণ করেও থাকি তবে বিভাগের সভাপতি আলী রেজওয়ান কেন এতোদিন চুপ ছিলেন। একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি আমার সাথে বিষয়টা আলাপ করে দেখতে পারতেন বা আমাকে সতর্ক করতে পারতেন। আমার মনে হয়, নিজে বিপদে পড়ে বিভাগের সভাপতি এখন দিশেহারা হয়ে গেছেন এবং নিজেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এমন ন্যাক্কারজনক কৌশল অবলম্বন করেছেন।
যৌন হয়রানির অভিযোগকারী ঐ শিক্ষার্থী তাকে নিয়ে বিভাগের দুই শিক্ষককে জড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন,‘আকবর স্যার ও হাবিব স্যারের সাথে অ্যাকাডেমিক কাজ ব্যতীত আমার কোন ধরনের কথা হয়নি। আর আমাকে নিয়ে বিভাগীয় প্রধানের যে হীন মন্তব্য করেছে যেটা সত্যিই লজ্জাজনক। সম্মানিত এ দুই স্যারের সাথে আমার এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি আর সেটা বিভাগীয় প্রধানকে বলা তো দূরে থাক। যৌন হয়রানির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্যই বিভাগীয় প্রধান এ নাটক সাজিয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, ‘একজন বিভাগীয় প্রধান তার বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। দু’জন শিক্ষক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ তুলে বিভাগটির সান্ধ্য কোর্সের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের, ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেল বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টিকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদীত বলে বিভাগের এক শিক্ষককে এর মদদ দাতার অভিযোগ তুলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!