স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য নির্দেশনা মেনে স্কুল খুলতে ও পাঠদান করতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে কতৃপক্ষ

৭৪

সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা পেয়ে সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরের হিলিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য নির্দেশনা মেনে পাঠদানের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ। এদিকে দীর্ঘদিন পরে স্কুল কলেজ খোলার খবরে খুশি ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত ক্লাস ও পরিক্ষায় অংশ নিয়ে করোনার কারনে পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আশা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৮টি হাইস্কুল, ৩টি জুনিয়র স্কুল, ৩টি কলেজ ও ১৩টি মাদ্রাসা মিলিয়ে ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক খুলতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী সুলতানা পারভীন, রেবেকা সুলতানা ও বাদল মার্ড্ডি বলেন, করোনার কারনে আমাদের কলেজ বন্ধ রয়েছে এর কারনে কোনরকম ক্লাস করতে পারিনি কোচিং বন্ধ ছিল যার কারনে আমাদের পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা শিক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল কলেজ খুলছে সেজন্য আমরা খুব খুশি আমরা আবারো কলেজে যেতে পারবো পড়ালেখা করতে পারবো। আমরা মাস্ক পরিহিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত কলেজে যাবো ক্লাস করবো এতে করে করোনার কারনে পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে সবমিলিয়ে ভালো পরিক্ষা দিতে পারবো বলে আশা করছি।

বাংলাহিলি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে মোতাবেক আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি, বর্তমানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা পরিমাপ, সকলের মাস্ক পড়া নিশ্চিত করা, যদি কেই মাস্ক ছাড়া আসে তাহলে স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে মাস্ক দেওয়া, জীবানুনাশক স্প্রে করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ অন্যান্য যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো মেনেই ক্লাস পরিচালনা করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে ক্লাস করতে পারেন ও করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। করোনার কারনে যেহেতু দীর্ঘদিন ক্লাস হয়নি তাই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরিবেশ ভালো হলে অন্য কি করা যায় সেটি করা হবে।

হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক দেবাশিস কুমার সরকার বলেন, বৈশ্বিক করোনার কারনে দেড়বছরের বেশী সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। যেসব গাইডলাইন মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা দিয়েছেন সরকার আমরা সেই অনুযায়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর পুর্ব প্রস্তুতি শুরু করেছি। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ফলে ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবকদের মাঝে প্রানচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তাদের সবার মাঝে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা যাচ্ছে তারা খোজ খবর নিচ্ছে কিভাবে কলেজে আসবে ক্লাস করবে এগুলো সম্পর্কে খোজ খবর নিচ্ছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা চালাচ্ছি, জীবানুমুক্ত করাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা কিভাবে আসবে ক্লাস করবে সেই নির্দেশনা সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হবে।

হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল কলেজ খোলার যে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে সে বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোসহ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে সেগুলো মেনেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনার ব্যাঘাত হয় তবে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

জেনিফার_________৭ সেপ্টেম্বর ২১

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!