হিলিতে গত ২৪ঘন্টায় নতুন করে ৫জন করোনায় আক্রান্ত

হিলি প্রতিনিধি।।

3

সীমান্তবর্তী এলাকা দিনাজপুরের হিলিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রামনের হার। গত ২৪ঘন্টায় নতুন করে আরো ৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রামনের হার বাড়লেও মানুষজনের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরিধান করে চলাফেরা করার হার কমছে।

মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এই তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হয়। গত ২৪ ঘন্টায় দিনাজপুর জেলায় ১৪১টি নমুনা পরিক্ষা করা হয় যার মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৭জনের, এর মধ্যে হিলির ৫জন। পরিক্ষা বিবেচনায় পরিক্ষার হার ৩৩.৩৩ভাগ।

এনিয়ে হিলিতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১১৭জনে, এর মধ্যে ১জন মৃত্যুবরন করেছেন, এ পর্যন্ত মোট সুস্থ্য হয়েছেন ৯৫জন, আর বর্তমানে ২১জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সকলেই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তবে এরা কেউই চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটকে থাকা ভারত ফেরত যাত্রী নয়।

এদিকে সরেজমিন মঙ্গলবার হিলিবাজারের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, হিলিতে দিন দিন করোনা সংক্রামনের হার বাড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার বলা হলেও সাধারন মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও মাস্ক পরিধান করার প্রবনতা কম লক্ষ্য করা গেছে।

অধিকাংশ মানুষই বাজার ঘাটে কেনাকাটা করছেন মাস্ক ছাড়া, দুএকজন মাস্ক পরিধান করলেও তারা থুতনিতে নামিয়ে রাখছেন। অধিকাংশ দোকানগুলোতে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.তৌহিদ আল হাসান বলেন, পুর্বে হিলিতে করোনা সংক্রামনের হার অনেক কম ছিল। গত কয়েকদিন ধরেই হিলিতে হঠাৎ করে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি আমাদের সতর্কবার্তা এটিই তারা যেন মাস্ক পরিধান করে ও যেকোন ধরনের উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়। একইসাথে তারা যেন করোনা পরিক্ষার আওতায় যাতে আসে। তবে আমরা এবিষয়ে সর্বচ্চো সতর্কাবস্থায় রয়েছি আমরা প্রতিটি নাগরিককে স্ক্রিনিং এর আওতায় আনছি।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, বন্দর দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য আমদানি রফতানি কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি চালকের তাপমাত্রা পরিমাপ করে, মাস্কপড়া নিশ্চিত করে, জীবানুমুক্ত করে তারপরেই ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে ভারত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা পরিক্ষা করাসহ তাদেরকে ১৪দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে।

এছাড়া ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক চালক ও সহকারীদের স্বাস্থ্যিবিধি মানাতে বন্দর কতৃপক্ষ যথেষ্ট সচেষ্ট রয়েছে,আমরাও বিষয়িট নিয়মিত মনিটরিং করছি। সম্প্রতি আরো কিছু বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে, ভারতীয় চালক ও সহকারীদের থাকার জন্য নিরাপত্তা কর্মীদের প্রহরায় আলাদা স্থান নির্ধারন করা হয়েছে।মাল খালাস হলে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে ট্রাক নিয়ে ভারতে চলে যাবে।

পুলিশের টহল ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে করে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দরের পণ্য নিয়ে আসা কোন চালক মাঝপথে ট্রাক থামিয়ে স্থানীয় কোন দোকান থেকে পণ্য কিনতে না পারে। হিলি স্থলবন্দরে ঢোকার ও বাহির হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবেশপথে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন করা হবে যাতে করে সবাই স্যানিটাইজড হয়ে ঢুকতে পারে।এছাড়াও নিয়মিত মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যিবিধি মেনে চলেন সেবিষয়টি আমরা নিশ্চিত করছি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!