হিলিতে হঠাৎ করেই মাস্কের দাম দ্বিগুন

হিলি প্রতিনিধি

48

দিনাজপুরের হিলিতে শীতকালীন সময়ে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ রোধে কয়েকদিন ধরে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের কারনে মাস্কের চাহীদা বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই মাস্কের দাম দ্বিগুনের বেশি বেড়ে গেছে। আবার কোন কোন দোকান থেকে মাস্ক উধাও হয়ে গেছে, চাইলেও মিলছেনা মাস্ক। এদিকে মাস্ক না পাওয়ায় ও দাম বাড়ার কারনে বিপাকে পড়েছেন সাধারন মানুষ।

সরেজমিন হিলি বাজারের বিভিন্ন ওষধের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই মাস্ক আগের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, এর মধ্যে কয়েকটি দোকানে মাস্ক নেই বলেও জানা গেছে। কয়েকদিন আগেও প্রতি প্যাকেট মাস্ক (৫০পিস) ১শ থেকে ১শ১০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, আবার কোন কোন দোকানে ২শ টাকা বা তার বেশী দাম নেওয়া হচ্ছে। এককথায় যে যেমন পাড়ছে সাধারন মানুষের নিকট থেকে দাম নিচ্ছেন। এদিকে এমন করে মাস্কের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ও মাস্ক না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারন মানুষজন। তবে বিক্রেতারা বলছেন আগের তুলনায় মাস্কের দাম কিনতেই বেশী হওয়ার কারনে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

হিলি বাজারে মাস্ক কিনতে আসা ইউসুফ হোসেন ও সোহেল রানা বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই নিজেসহ পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে বাড়ির বাহিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সকল সদস্যরাই মাস্ক ব্যবহার করে আসছি। যার কারনে নিয়মিত ভাবেই বাজার থেকে মাস্ক কেনা হয়। কিন্তু গত দু থেকে তিনদিন ধরে শীতকালীন সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রোধে প্রশাসনের অভিযান চালানোর ফলে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। এদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী যারা কিনা মাস্কের দাম দ্বিগুনের বেশী বাড়িয়ে দিয়েছেন, আবার অনেকে মাস্ক রেখেও নেই বলে চালিয়ে দিচ্ছেন, বাড়তি দাম পেলে ঠিকই বিক্রি করছেন। কয়েকদিন আগেও ৫০ পিসের প্রতি বক্স মাস্ক ১শ থেকে ১শ ১০ টাকা করে কিনলেও সেই বক্স এখন ১শ ৮০ টাকা চাচ্ছে আবার কেউ কেউ ২শ বা তার বেশী দাম নিচ্ছেন। আবার অনেক দোকানে মাস্ক নেই বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। করোনার এমন সময়ে যেখানে সরকার সকলকে মাস্ক ব্যবহারের কথা বলছেন, প্রশাসন অভিযান চালানোর কারনে মানুষ মাস্ক ব্যবহার শুরু করছেন ঠিক সেসময়ে মাস্কের দাম বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই মাস্কের মুল্য বৃদ্ধি রুখতে ও সরবরাহ নিশ্চিতে প্রশাসনের অভিযান চালানোর দাবী জানান তারা।

হিলি বাজার ওষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগে আমাদের মাস্কের প্রতি ৫০ পিসের বক্স কিনতেই হতো ৭০ টাকা করে, বর্তমানে করোনার কারনে চাহীদা বেড়ে যাওয়ায় তা বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা করে বক্স কিনতে হচ্ছে। এসব মাস্ক খুচরাতে যা ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে যার কারনে বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কেউ যদি ২শ টাকা বক্স বিক্রি করে সে বেশি বিক্রি করতিছে, মাস্কের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। অনেক দোকানে পাওয়া যাচ্ছেনা এবিষয়ে তিনি বলেন কেউ হয়তো মাস্ক রেখেও বলছে নেই, কিন্তু আসলে মাস্কের অভাব নেই।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর-এ আলম বলেন, করোনার এই সময়ে কেউ যেন এটিকে পুজি করে বিশেষ করে মাস্কের দাম বাড়াতে না পারে সে ব্যাপারে বাজারের সকল ওষধ ব্যবসায়ীদের মাস্কের মুল্য তালিকা টাঙানোর নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি ও মানুষ যেন সেটি দেখতে পারে সেবিষয়টি নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। একইসাথে কেউ যেন মাস্কের কৃতিম সংকট তৈরি করে নির্ধারীত মুল্যের চেয়ে দাম বেশী নিতে না পারে এবিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!