১৪ মামলার আসামী জাহাঙ্গীরের অপকর্মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

অননিউজ ডেস্ক।।

401

কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলা চৌয়ারা এলাকার মোহাম্মদপুর প্রকাশ্যে উলুচর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের পুত্র ১৪ মামলার আসামী জাহাঙ্গীর আলমের অপকর্মের বিরুদ্ধে সাংবাদ সম্মেলন করেছে নির্যাতনের শিকার ভূক্তভোগী এক পরিবার। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সীমান্ত কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারী ও চাঁদাবাজ চক্রের মুল হোতা জাহাঙ্গীর হোসেন এখন চৌয়ারা এলাকার আতংক। জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিন মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজী, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ১৪ টি মামলা রয়েছে।

সে বর্তমানে চৌয়ারা এলাকার বিভিন্ন ভাবে মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে। জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর লোকজন চৌয়ারা বাজারে আসা গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিচ্ছে। এছাড়া চৌয়ারা সিএনজি স্ট্যান্ড, মুরগী বাজার, মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে।সম্প্রতি স্থানীয় ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসানের ছবি সংবলিত নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাহাঙ্গীর বাহিনীর রোষানলে পড়ে মোঃ আবদুর রহমান আবদুল্লাহ নামের এক যুবক।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি রেস্টেুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই এলাকায় রায়পুর গ্রামের একটি বে-সরকারী কোম্পানীর কর্মচারী মোঃ আবদুর রহমান আবদুল্লাহ। এসময় তাঁর বাবা মোসলেম মিয়া, মা সালেহা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে আবদুল্লাহ জানান, গত ২ জানুয়ারী দুপুরে নিজ বাড়ী থেকে বাজারে আসার পথে আগে থেকে উৎপেতে থাকা চৌয়ারা এলাকার মোহাম্মদপুর প্রকাশ্যে উলুচর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নেতৃত্বে তাহার ভাই জাকির হোসেন (৪২) ও ভাগিনা মিরশানী গ্রামের আবুল বাসারের পুত্র পারভেজ ওরফে সুমন (২০),চৌয়ারা গ্রামের মিঠু চৌধূরীর পুত্র অনিক চৌধূরী(২২), মোহাম্মদপুর প্রকাশ্যে উলুচর গ্রামের বারেক মাষ্টারের পুত্র ইকবাল (২৫), আবদুল খালেক ওরফে কুলি খালেকের পুত্র আশিক (২৭), চৌয়ারা গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের পুত্র হাছান বাবর বাবু (৪৫) সহ আরো কয়েকজন মিলে অস্ত্র দেখিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর প্রকাশ্যে উলুচর গ্রামের কালা হাজীর বাড়ীর পিছনে বাগানে নিয়ে মারধর করে।

চৌয়ারা বাজার দিয়ে প্রকাশ্যে তারা আমাকে ধরে নিয়ে গেলেও তাদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে। তাঁরা কাউন্সিলর আবুল হাসানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। যা তারা মোবাইলে রেকর্ড করতে চায়। নতুবা অস্ত্র দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জেল খাটানোর হুমকী দেয়। কাউন্সিলর হাসানের বিরূদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষী রেকর্ড করতে না পেরে পরে তারা ৯৯৯ এ কল করে একটি বন্দুক, এক রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত ঘটনা জেনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরের ভাগিনা মিরশানী গ্রামের আবুল বাসারের পুত্র পারভেজ ওরফে সুমন (২০)কে আটক করে। গত ৩ জানুয়ারী রবিবার কুমিল্লা সদর দক্ষিন মডেল থানার এস আই মোঃ শাহ আলম বাদী হয়ে ১৫১ ধারা মোতাবেক তাকে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করে। ওই দিনই বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করে।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আরো জানান, সে ২৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী,প্রায়ই সে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহন করে থাকেন। স্থানীয় ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসান একই গ্রামের ও একই দলের লোক হওয়াতে ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে কাউন্সিলর আবুল হাসান ছবিসহ ফেইসবুকে শুভেচ্ছা দেন। কাউন্সিলর হাসানের সাথে জাহাঙ্গীরের বিরোধ থাকায় হাসানের ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন । জাহাঙ্গীর ধুধর্ষ সন্ত্রাসী হওয়াতে বর্তমানে জামিনে এসেও আবদুল্লাহ ও তার পরিবার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান। সে পরিবারের নিরাপত্তা, অস্ত্রের রহস্য উদঘাটন ও জাহাঙ্গীর আলমের গ্রেফতার দাবী করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সীমান্ত কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারী ও চাঁদাবাজ চক্রের মুল হোতা জাহাঙ্গীর হোসেন এখন চৌয়ারা এলাকার আতংক। জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিন মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজী, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ১৪ টি মামলা রয়েছে। সে বর্তমানে চৌয়ারা এলাকার বিভিন্ন ভাবে মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে। জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর লোকজন চৌয়ারা বাজারে আসা গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিচ্ছে। এছাড়া চৌয়ারা সিএনজি স্ট্যান্ড, মুরগী বাজার, মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে। চৌয়ারা বাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে গত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!