৯ বছরের আয়ুষের চমক, কাগজ দিয়ে বানাল দুর্গা প্রতিমা

অনলাইন ডেস্ক।।

48

পুরো বিশ্বের চিত্রটাই পাল্টে দিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। করোনা সংক্রমণ এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই খুদে শিক্ষার্থীদের এখন সময় কাটছে বাড়িতে বসে স্মার্টফোনে চোখ রেখে। অনলাইন ক্লাস আর কার্টুনের দুনিয়ায় মজে রয়েছে তারা।

তবে কেউ কেউ এই বৈরী সময়টা কাজেও লাগাচ্ছে। তার চাক্ষুষ উদাহরণ ৯ বছরের আয়ুষ নন্দী। তার বাড়ি উত্তর কলকাতার বাগবাজারে। শিফন সুতা, কাগজ, আঠা, কিছু স্টোন আর পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশীর কেনা নতুন ফ্রিজের বোর্ড দিয়েই তৈরি করে ফেলেছে দুর্গাপ্রতিমা।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জানায়, আয়ুষের বাবা নারায়ণ নন্দী কর্মসূত্রে একজন চিত্রকর। সেই সূত্রে বাড়িতে শিল্পকলার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী থাকতই। বাবার কাজকে অনুসরণ করত আয়ুষ। ছোটবেলা থেকেই মাটির ছোট মূর্তি, কাগজের টুকরো জুড়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করত সে। সেসব দেখে বাবা নারায়ণ ছেলেকে উৎসাহ দিতেন। মাসখানেক আগে আয়ুষ বাবার কাছে বায়না ধরে তাকে শিফন সুতো, হ্যান্ড মেড পেপার, কিছু স্টোন ও খবরের কাগজ এনে দিতে হবে। কারণ হিসেবে সে বলে একটি দুর্গা প্রতিমা বানাবে।

নারায়ণ নন্দী এসব উপকরণ এনে দিলে কাজে লেগে পড়ে আয়ুষ। প্রতিমা চালচিত্র তৈরির জন্য পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশীর নতুন কেনা ফ্রিজের বোর্ডগুলো চেয়ে নেয় সে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই সে বানিয়ে ফেলে অপরূপ একটি দুর্গা প্রতিমা।

ছেলের বানানো সেই দুর্গা প্রতিমার একটি ভিডিও ফেসবুকে দেন বাবা। ওই ভিডিওটির শেষে আয়ুষকে বলতে দেখা যায়, ‘আমার এই দুর্গা ঠাকুরটি যদি কেউ দেখতে আসে খুব ভালো লাগবে।’

সম্প্রতি আয়ুষের ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পান রাজপুর কালীতলার বাসিন্দা তমাল পাহাড়ি। ‘আমার এই দুর্গা ঠাকুরটি যদি কেউ দেখতে আসে আমার খুব ভালো লাগবে’- ভিডিওতে আয়ুষের বলা এই কথা তাকে ছুঁয়ে যায়। যোগাযোগ করেন আয়ুষের বাবা নারায়ণের সঙ্গে। পরে তার অনুমতি নিয়ে খুদের বানানো এই প্রতিমা নিজের সেলুনে রেখে দেন।

খুদের এই কাজের স্বীকৃতি দিতে ভোলেননি তমাল পাহাড়ি। ধুতি, পাঞ্জাবি আর শঙ্খ উপহার দেন আয়ুষকে। সঙ্গে সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। আয়ুষকে দেয়া হয় একটি প্রশংসাপত্র।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!