আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাপা প্রার্থীকে সতর্ক করলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা

​নীলফামারী প্রতিনিধি।

নির্বাচনী ডামাডোল শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে। ভোট গ্রহণের নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই গণসংযোগ ও স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে কিশোরগঞ্জ বাজারে শো-ডাউন করেন সিদ্দিকুল আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণসংযোগকালে নেতাকর্মীরা ‘লাঙ্গল, লাঙ্গল’ বলে উচ্চস্বরে স্লোগান দেন এবং উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন। গণসংযোগ শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টিও বিতরণ করা হয়।

​নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রার্থী প্রকাশ্য সভা, মিছিল, স্লোগান বা কোনো ধরনের প্রচারণামূলক গণসংযোগ চালাতে পারবেন না। তফসিল ঘোষণার পর এই নিয়ম ভঙ্গ করায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।


​ঘটনাটি নিয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুদ রানা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন,আমরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচারণা চালাতে যাইনি। কিছু অতি-উৎসাহী সমর্থক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়ে ফেলেছে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এবং ভবিষ্যতে এমন হবে না বলে নিশ্চিত করেছি।”
​উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেছেন
​”বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই প্রার্থীর সাথে কথা বলা হয়েছে। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন করবেন না বলে কথা দিয়েছেন। আপাতত তাকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে প্রশাসন এখন থেকেই হার্ডলাইনে। জাপা প্রার্থীর এই ঘটনা অন্য প্রার্থীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

আরো দেখুনঃ