আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন করার তোড়জোড়

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

কুড়িগ্রাম জজ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে তোড়জোড়ের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের সদস্য মামলার বিবাদী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে এ আদেশ গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় বাদী পক্ষের আইনজীবীকে জিম্মি করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর নিয়েছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মামলার বাদি শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল(সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী) বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান ও নির্বাচন বর্জরে ঘোষণা দেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে আদালতের আদেশ উপেক্ষিত হয় সেখানে ন্যায় বিচার কিভাবে পাবো। তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশাবাসীকে এবং সরকারকে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলন।

এই ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে মোস্তফা কামাল সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ভোটার তালিকায় সহস্রাধিক ভুয়া ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ‘পিংকি বাচ্চু’ নৈশ কোচের মালিক বাচ্চু মিয়াকে শ্রমিক হিসেবে ভোটার করা হয়। এবং তিনি মালিক হয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করছেন। এরকম গুরুতর সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মোকদ্দমা ৪২/২৬ অন্য মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ বিচারক শুনানিআন্তে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নির্বাচন কার্যক্রমের উপর স্থগিত আদেশ প্রদান করেন। প্রার্থীপক্ষের প্রার্থীত মতে, কেন অস্থায়ীয় নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করা হবে না তা লিখিত ব্যাখ্যা অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে দর্শাইতে ১-৬ নম্বর প্রতিপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর পরই আদালতের নোটিশজারীকারী ২ নম্বর বিবাদি সামছুল হক সরকার ও ৩ নম্বর বিবাদি বজলুর রশিদকে প্রদান করলে তারা গ্রহণ করেননি।

উল্টো কয়েকজন সন্ত্রাসী আমার নিযুক্ত অ্যাডভোকেটকে জোড় করে ৩ নম্বর বিবাদি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুর রশিদের রুমে নিয়ে যায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে আমাকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার দরখাস্তে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে কোর্ট চত্ত্বর থেকে তারিয়ে দেওয়া হয়। আমি এসব অভিযোগ লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর থানায় অবহিত করেছি।

মানিক চন্দ্র বর্মণ বলেন, আজ কোর্টে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারির খবর জানাজানি হলে একটি পক্ষ আমার উপর রুষ্ট হয়। কোর্ট চলাকালীন সময়ে আমাকে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এর রুমে আসতে পিপিসহ অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে আমাকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদনে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় তারা এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দিয়ে তাৎক্ষণিক কোর্ট চত্তর থেকে হুমকি প্রদর্শন করে বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য করেন তারা।

এবিষয়ে ৩ নম্বর বিবাদি ও নির্বাচন কমিশনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুর রশিদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মোবাইলটি তার সহকারীকে দেন। নামাজের সময় না হলেও তার সহকারী বলেন স্যার নামাজে গেছেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকার কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেন নি।

২নম্বর বিবাদি ও নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সামছুল হক সরকার বলেন, নির্বাচন স্থগিতাদেশের কোনো নোটিশ আমার কাছে আসেনি এবং বাদীর আইনজীবীর নিকট থেকে পিপির কক্ষে জোরপূর্বক সাক্ষর নেয়ার বিষয় কিছুই জানি না। আর আগামীকাল নির্বাচন হবে কি না তাও জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে ১ নম্বর বিবাদি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. মোঃ মাহফুজার রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের স্থগিতাদেশ হয়েছে কি না তা জানি না। এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশ পাইনি। কাল যথারীতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিষয়টি জেনেছি। মোটর শ্রমিক নির্বাচন স্থগিতের জন্য ফাইলিং অ্যাডভোকেটকে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পিপি বজলুর রশিদের সরকারি অফিস কক্ষে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তার কাছ থেকে ওকালতনামা এবং দরখাস্ত ফরমে বলপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করার পর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তিনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে কথা বলার পর মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন।

অন্যদিকে পিপির এমন কান্ড নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন মোকদ্দমার বাদী। অন্যদিকে আদালত কর্তৃক জারিকৃত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার নোটিশ না পেলেও মৌখিভাবে জানলেই আদলতের নির্দেশনা মানতে সকলে বাধ্য।

আরো দেখুনঃ