টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় নাম আসা বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না হওয়ায় নিহতদের পরিবার, তাবলিগ সংশ্লিষ্ট আলেম ও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ বাড়ছে।
২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থী শুরায়ে নেজাম এবং সাদপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় কয়েকজন মুসল্লি নিহত এবং অনেকে আহত হন। পরে এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ, সংঘর্ষের পেছনে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের নামও। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, রেজানুর রহমান তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংঘর্ষের আগে-পরে তার ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর টঙ্গী পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদী পক্ষ।
বাদী পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত শেষ হয়নি এবং আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, মামলার তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে এবং নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে তাবলিগ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মহল বলছে, ইজতেমার মতো ধর্মীয় ও জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। তাদের আশঙ্কা, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা থাকলে ভবিষ্যতে একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, মামলার তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করাই এখন প্রধান বিষয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
ইজতেমা মাঠের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা এই হত্যা মামলা এখন দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com