ইসলামপুরে মাসুম খানের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদ-পদবি বাণিজ্যের অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোর্শেদুর রহমান খান মাসুমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, পদ-পদবি বাণিজ্য, নদী শাসন প্রকল্পে অনিয়ম এবং জনপ্রতিনিধি মনোনয়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী।

অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সাংগঠনিক দুর্বলতার পেছনে মাসুম খানের ভূমিকা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন এবং টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতেন।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মেধাবী চাকরিপ্রার্থী ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, মাসুম খান তাঁর ছোট ভাই সোহেল খানের
মালিকানাধীন একটি সোলার ভিশন ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের প্রশ্ন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কীভাবে বৃদ্ধি পেল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পদের উৎস অনুসন্ধান ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, তাঁর বড় ভাই সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল-এর রাজনৈতিক প্রভাব এবং ধর্মমন্ত্রীর এপিএস ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব- ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির সহযোগিতায় ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ
ধর্ম মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গোরস্থান, মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নের নামে বেনামে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের নিম্নমানের আবাসন ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা ত্রুটি এবং হজ কার্যক্রমের কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও বড় ভাই ধর্মমন্ত্রীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেন। ওই পদকে কেন্দ্র করে তিনি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ ও পদ-পদবি বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, তিনি কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন বরং ব্যবসা করেই অর্থ উপার্জন করেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আরো দেখুনঃ