জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জীবন যেন রাষ্ট্রের চোখের আড়ালে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস। নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও তাদের দুর্দশা নিরসনে নেই কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চরাঞ্চলে হাজারো পরিবার বছরের পর বছর বসতভিটা ও আবাদি জমি হারাচ্ছে। যমুনার গতিপথ বদলের সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। একাধিকবার ঘর স্থানান্তর এখানে নিত্যদিনের ঘটনা হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ বা অবকাঠামো নির্মাণে তেমন অগ্রগতি নেই।চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও দিনমজুরি। জমি হারানোর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পরিবারগুলো চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ছে।

চরবাসী মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এই জীবনে শান্তি নাই। কখন নদী ঘর নিয়ে যাবে বলা যায় না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারি না, অসুস্থ হলে নৌকায় করে শহরে নিতে হয়।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। চর প্লাবিত হয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অথচ এসব এলাকায় নেই স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগকালে ত্রাণ এলেও তা অপ্রতুল এবং অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন নারীরা। নিরাপদ প্রসব ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মাতৃত্ব হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদ্যালয় সংকট ও যোগাযোগ সমস্যায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চরবাসীর দাবি, শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এ অঞ্চলের চিত্র বদলানো সম্ভব। টেকসই ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ ছাড়া চরবাসীর এই সংগ্রামের অবসান হবে না।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com