জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাজেলের চর বাজার থেকে প্রায় ২ কিলো মিটার গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ ইটের সলিং সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের অধিকাংশ অংশে ইটের সলিংয়ের অস্তিত্ব প্রায় হারিয়ে গেছে। কোথাও ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত, কোথাও বালু-মাটিতে ঢেকে গেছে সড়ক। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাজেলের চর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে উঁচু-নিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ইটের সলিং ক্ষয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও শুধু বালু-মাটির ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কের মাঝখানে ও দুই পাশে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত । সামান্য বৃষ্টি হলে এসব স্থানে পানি ও কাদা জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি ইটের সলিং করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে একসময় চলাচলের উপযোগী থাকা সড়কটি এখন অনেকটা পায়ে হাঁটার পথের মতো হয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের চলাচলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কৃষকেরা মাঠের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বাজারে যান। এছাড়া অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাবের হোসাইন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। ইটের সলিং অনেক জায়গায় উঠে গেছে, আবার কোথাও বালু-মাটিতে ঢেকে গেছে। সড়কটি এখন চলাচলের জন্য খুবই কষ্টকর। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। রাস্তা সমান নেই, কোথাও গর্ত আবার কোথাও বালু। বর্ষার সময় হাঁটতে আরও সমস্যা হয়। অনেক সময় জুতা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তা ভালো হলে আমাদের যাতায়াতের কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সড়কটি ভালো না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভ্যান, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলেও নানা সমস্যা দেখা দেয়। এতে একদিকে সময় বেশি লাগে, অন্যদিকে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে বালু বা মাটি ফেলে সমস্যার সমাধান হবে না। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত ইটের সলিং তুলে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নতুন করে টেকসই সলিং অথবা উপযুক্ত সড়ক নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি সড়কের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এবং স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ইটের সলিং সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো: তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, সড়কটি এলজিইডির আওতায় নতুন আইডিভুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটির এস্টিমেট (প্রাক্কলন) প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই সড়কটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com