কুড়িগ্রামে চরের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত দুর্গম দ্বীপ চর রাউলিয়া। চারিদিকে পানির থৈথৈ আর বালুচরের মাঝে হেঁটে হেঁটে স্কুলে আসে শিশুরা। দারিদ্র্য আর প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালানো এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ কুড়িগ্রামের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ কুড়িগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। এই দারিদ্র্যের হার কমাতে হলে জেলার সাড়ে ৮ শ বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকা ৪ শতাধিক চরের সাড়ে ৫ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে পুরো জেলার সার্বিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, জেলায় ১ হাজার ২৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নদী তীরবর্তী, চর ও দ্বীপ চরে রয়েছে ১৬৯টি স্কুল। কিন্তু নদীভাঙনে চরের শিক্ষা খাত মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ঝরে পড়া রোধে চরাঞ্চলে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘ভাসমান স্কুল’ প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানান তিনি।
চরাঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষা সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই বললেই চলে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই চরের মেয়েদের বাল্যবিয়ে আর ছেলেদের উপার্জনে নেমে পড়তে হয়। পর্যাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় তৈরি না করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। এ ছাড়া পাহাড়িদের জন্য যেমন আলাদা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, তেমনি চরাঞ্চলের সুনির্দিষ্ট সমস্যার সমাধানে দ্রুত ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনেরও দাবি জানান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আখের, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোঃ নওশাদ এবং ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রফিউল হক, ক্রীড়া সংগঠক শাহানুর আশরাফ জুয়েল, ঘোগাদহ ইউনিয়ন চর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আব্দুল জলিল এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন অতিথিরা। দুর্গম চরের স্কুলে ব্যাগ ও নতুন শিক্ষা উপকরণ পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায় খুদে শিক্ষার্থীদের।