কুড়িগ্রামের ২টি খাদ্য গুদামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৫২৭ মেট্রিক টন ধান ও ৩৫ মেট্রিক টন চাল ঘাটতি এবং ১২০ মেট্রিক টন চাল লোপাটের প্রস্তুতিকালে সিলগালা করেছে। খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের অভিযান চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় তড়িঘরি করে জেলা খাদ্য বিভাগ নিজেদের দায় এড়াতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু তাদের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
জেলা দুনীর্তি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো: সাবদারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কুড়িগ্রামের জেলা খাদ্য গুদাম ও সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ১৪টি গুদাম ঘরের মধ্যে ৮টিতে ৫২৭ মে.টন ধান ও ৩৫ মে.টন চালের কোনো হদিস মেলে নি। অথচ খাদ্য বিভাগের কাগজ কলমে দেখানো হচ্ছে উধাও এই ধান ও চাল গুদামেই সংরক্ষিত আছে। পক্ষান্তরে গুদামে ১২০ মেট্রিক টন চাল মজুদ থাকলেও নথিপত্রে এর কোনো মজুদ নেই।
অভিযোগে জানা যায়, ৫২৭ মে.টন ধান ও ৩৫ মে.টন চাল আত্মসাতের পর দুর্নীতিবাজ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অবশিষ্ট ১২০ মে.টন চাল লোপাটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরকম অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের অভিযানে এই অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র ধরা পড়ে।
এ ছাড়াও তিনি জানান, ৮০জন কৃষকের কাছ থেকে ৩০০০ কেজি করে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মর্মে কাগজপত্র দেখান কর্মকর্তারা যার ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর নেই। এরমধ্যে যাচাইয়ের জন্য তাৎক্ষণিক ৮জনে সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান ধান সরবরাহ করেন নি এবং কয়েকজন জানান তারা কৃষক নন, তাদের নম্বর কারা খাদ্য বিভাগে দিয়েছে তাও জানেন না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য কর্মকর্তারা দুদকের এই অভিযান টিমকে বিভ্রান্ত করতে এলাহী অটো রাইস মিলসহ বিভিন্ন রাইস মিলে ঘাটতির চাল ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মজুদ আছে মর্মে দাবী করে। কিন্তু সেখানে অভিযান চালিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি। এতে প্রতীয়মান হয় খাদ্য বিভাগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন থেকে এ অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে।
সরকারি ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ধান ৩৪টাকা হিসাবে ৫২৭ মে.টন ধানের মূল্য এক কোটি ৭৯লাখ ১৮হাজার টাকা, প্রতি কেজি চালের মূল্য ৫০টাকা হিসাবে ৩৫মে.টন চালের মূল্য ১৭লাখ ৫০হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়। এছাড়া ১২০ মে.টন চাল যার মূল্য ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে মজুদ করা হয়। সব মিলিয়ে দুই কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক খাদ্য বিভাগে দুদুকের অভিযানের কথা স্বীকার করে বলেন, এ অভিযান চলমান রয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে কী পরিমাণ অনিয়ম-অসঙ্গতি ধরা পড়েছে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খাদ্য বিভাগ তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সোমবার।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক, নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওছার হাবিব ও কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক জোবেদ আলীকে সদস্য করে এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে তাদের তদন্ত কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় নি।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com