বৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলো। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলো। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্ধকারে কিংবা চার্জার লাইট ও মোমবাতি জ্বালিয়ে।
পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত করা হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ৬ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত দুই দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে ৬ উপজেলায় আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় মোট ৭১টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ১০২৫টি স্পটে বৈদ্যুতিক সংযোগের ওপরে গাছ পড়েছে। ৫৫০টি মিটার ভেঙেছে এবং ৭৩৮টি স্পটে তার ছিঁড়েছে। ছয় উপজেলায় ৩৫টি মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ২৬ এপ্রিল এর পর আমরা সকল সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু ২৮ তারিখের ঝড়ে আবারো এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়েছে। আমরা সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিন রাত কাজ করছি।’
ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে।
ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায়ও বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে এই এসব এলাকার গ্রাহকেরা। পরে বিকেল ৫টায় জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি সংস্কার করা হয় বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, ঝড়ের পর থেকে আমাদের টিম সব জায়গায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুধবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে, সেগুলো আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ।
কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের ৪টি সমিতি মোট ক্ষয়ক্ষতি জানতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ২৮ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।
সূত্রঃi ndependent tv
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com