কুমিল্লায় প্রবাসীর স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে স্ত্রী উধাও, সম্পদ হারিয়ে বিপাকে পরিবার

আহসানুজ্জামান সোহেল, কুমিল্লা

কুমিল্লার বরুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী আট ভরি স্বর্ণাংকার ও দুই লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও এর ঘটনা ঘটেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরুড়ার ভাউকসার এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে প্রবাসী সৈয়দ মো: ওমর সানির স্ত্রী মোশফেকা জাহান তার শশুরালয় থেকে আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান। স্থানীয় সূত্রে জানাযায় পরকীয়ার জের ধরে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আবদুল হাই এর মেয়ে মোশফেকা পালিয়েছে।

ঘরের স্টিলের আলমারির ড্রয়ার ভাঙ্গিয়া আলমারিতে রক্ষিত আধা ভরি ওজনের দুই জোড়া কানের স্বর্ণের কানপাসা যাহার মূল্য ১,১০,০০০/- (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা, ০১ ভরি ওজনের গলার স্বর্ণের চেইন যাহার মূল্য ২,২০,০০০/- (দুই লক্ষ বিশ হাজার) টাকা, আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণের হাতের বালা যাহার মূল্য ৫,৫০,০০০/- (পাচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা, ও আলমারীতে রক্ষিত নগদ ২,২৫,০০০/- (দুই লক্ষ পচিশ হাজার) টাকা নিয়ে চলে যায় বলে জানান তাহার শ্বাশুড়ী নূরজাহান বেগম।

এই বিষয়ে প্রতিবেশী তাছলিমা বেগম বলেন, আমরা যতটুকু দেখেছি নূরজাহান বেগম ও তার পরিবারের লোকজন অনেক ভালো। তার পূত্র বধূ পরকীয়া জনিত কারনে টাকা ও স্বর্ণাংকার নিয়ে চলে যায়। প্রশাসনের উচিৎ অতি দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণাংকার ও নগদ টাকা গুলি উদ্ধারের ব্যবস্থা করা।

অন্য আরেক জন স্থানীয় মহিলা বলেন, ষ্টিলের আলমারি থেকে স্বর্ণাংকার ও নগদ টাকা চুরি করে পরপুরুষের সাথে চলে যাওয়া মোটেও উচিৎ হয়নি যা নারী জাতির জন্য কলঙ্ক । আমরা প্রতিবেশী হিসাবে সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি, অতি দ্রুত যেনো এমন অপরাধের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয়।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রৗম কোর্টের আইনজীবি আতিকুর রহমান বলেন, আমানত খেয়ানত করা একটি জঘন্যতম অপরাধ, একজন প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করে তিল তিল করে জমানো টাকা তার নিজ গৃহে পাঠানোর পর স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে টাকা ও স্বর্ণাংকার নিয়ে পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়া আইনত দন্ডনীয় অপরাধ যাহা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য দৃষ্টিকটু।

এই বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমূল হক বলেন, এই বিষয়টি আমরা জেনেছি ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নগদ টাকা ও স্বর্ণাংকার চুরির বিষয়ে মামলার বাদী নূরজাহান বেগম বলেন আমার স্বামী নেই, একটি ছেলে তাও প্রবাসে অনেক কস্টের জীবন কাটায়, আমার পূত্র বধূ আমার ছেলের কষ্টের টাকা ও স্বর্ণাংকার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়, যদিও সে এখন তা অস্বীকার করছে, আমার ছেলে ও পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। আমি সরকার ও প্রশাসনের কাছে আকুতি জানাচ্ছি, আমার প্রবাসী ছেলের কষ্টার্জিত টাকা ও স্বর্ণাংকার যেনো উদ্ধার করে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রবাসীর স্ত্রী মোশফেকা বেগম কে কয়েকবার কল করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরো দেখুনঃ