কুমিল্লার তিতাসে বিএনপির অফিস ভাংচুরের অভিযোগ: থানায় মামলা
হালিম সৈকত,কুমিল্লা।।

কুমিল্লার তিতাসে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে বিএনপির অফিস ভাংচুরের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মুকবুল হোসেন নামে এক বিএনপি নেতা।
দুই হাজার পঁচিশ সালের একত্রিশ ডিসেম্বর শনিবার তিতাস থানায় একত্রিশ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দশ/ পনেরো জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ভূইয়ার ছেলে মুকবুল হোসেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, ত্রিশ ডিসেম্বর রাত সাড়ে সাতটার দিকে ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার নির্বাচনী কমিটি গঠনের লক্ষে আমাদের কয়েক জনের একটি দল জগতপুর যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আওয়ামী লীগের ত্রিশ পঁয়ত্রিশ জনের একটি গ্রুপ আমাদের পথরোধ করে। শাকিল নামে আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসী আমার বড় ভাই মোকাররম ভূইয়াকে পা কেটে ফেলার হুমকি দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হন।
২
ফলে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে এছহাক মোল্লা জুয়েল ও আবু কালামের ছেলে ফাহিম মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির অফিস ভাংচুর করে। সদ্য প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবিসহ অফিসের মূল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন মুকবুল হোসেন।
এবিষয়ে সাইফুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে স্বপন বলেন, আবু মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা জুয়েল, শাকিল ও ফাহিমের নেতৃত্বে মানিককান্দি গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। শান্ত গ্রামটিকে তারা অশান্ত করতে চায়। দীর্ঘ সতেরো বছরের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের এসব দোসররা এখনো কিভাবে এলাকায় এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আওয়ামী লীগের এসকল গুন্ডা বাহিনীকে অতি শীঘ্রই আইনের আওতায় এনে গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট ভূমিকা রাখেন।
৩
সন্ত্রাসী এসহাক মোল্লা জুয়েল এর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় বিএনপির অফিস ভাংচুর করেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এখনো তারা কি করে এসমস্ত কুকর্ম করার সাহস পায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মুঠোফোনে এসহাক মোল্লা জুয়েল জানান, আদৌ বিষয়টি সত্য নয়। মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে। বরং তারা শাকিল নামে একটি ছেলেকে মেরে আহত করেছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ছবি, ভিডিও দেখাতে বলেন। কিংবা আশেপাশের লোকজন দেখছে কিনা, এমন সাক্ষী আছে কিনা ? দেখাতে বলেন। তিনি আরও জানান আবু কালামের ছেলে ফাহিম মোল্লাও বাদী হয়ে ছয়/সাত জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
এবিষয়ে তিতাস থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ দীর্ঘ সময় ধরে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা ও সাইফুল ইসলাম মেম্বারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে কিছু দিন পর পর উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।