বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে টিয়া পাখি খাঁচায় বন্দি রাখা দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ এই আইন অমান্য করে রাজশাহীর বাগমারার নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আনারুজ্জামান রিপন একটি বন্য টিয়া পাখি (ডাক নাম মিঠু) প্রায় ১১ দিন ধরে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছেন।
এ কারণে খাঁচায় বন্দিদশা থেকে মিঠুকে উদ্ধার করে প্রকৃতির মুক্ত আকাশে উন্মুমুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের মকবুল হোসেনের বাড়িতে প্রায় ৫ বছর পূর্বে স্বেচ্ছায় আশ্রয় নেয় একটি বন্যপ্রাণী টিয়া পাখি। উন্মক্ত পরিবেশে খাবার ও আদর-যত্ন পেয়ে পাখিটি ওই বাড়ি ছেড়ে আর কোথাও যায়নি। মকবুল হোসেন জানান, তার ছেলের নাম মিঠু।
বাড়ির কোন লোকজন ‘মিঠু' নাম ধরে ডাকলেই ওই টিয়া পাখি সাড়া দিয়ে তার কাঁধে বা মাথায় এসে পড়ে। এ কারণে তার ছেলের নামের সাথে মিল রেখে ওই টিয়া পাখিরও নাম রাখা হয় ‘মিঠু’। এক পর্যায়ে পাড়ার সবার কাছেই পাখিটি মিঠু নামে পরিচিত হয়। পাড়ার সবাই মিঠুকে ডেকে নিয়ে গল্প করেন এবং অনেকে বাজার থেকে পাকা কলা কিনে খেতে দেন। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে মিঠু মকবুল হোসেনের বাড়িতে থাকলেও তাকে কোন দিন খাঁচায় বন্দি করা হয়নি।
কিন্তু গত ১ জুন সকালে মিঠু মকবুলের বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আনারুজ্জামান রিপন মিঠুকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছেন।
ইউপি সচিব আনারুজ্জামান রিপন গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের আফছার আলীর ছেলে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সচিব আনারুজ্জামান রিপন টিয়া পাখি মিঠুকে খাঁচায় বন্দি করে রাখার কথা স্বীকার করে বলেছেন, তার শাশুড়ির কাছে থেকে ৫শ’ টাকায় পাখিটি তিনি কিনে নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ূন কবীর বলেন, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বন্য টিয়া পাখি ধরা, কেনা-বেচা বা খাঁচায় বন্দি রাখা দন্ডনীয় অপরাধ। এই আইন কেউ অমান্য করে বন্যপ্রাণী টিয়া পাখি খাঁচায় বন্দি রাখলে অবশ্যই তাকে সংশ্লিষ্ট ধারায় সাজা ভোগ করতে হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল আলীমও একই মন্তব্য করে বলেন, টিয়া পাখি মুলত বনভূমির বড় বড় গাছে সৃষ্ট বাসার উপর নির্ভরশীল। কাজেই টিয়া পাখির বংশ বিস্তারের জন্য তাকে বন্দি না রেখে উন্মক্ত পরিবেশে স্বাভাবিক ভাবে বিচরণের সুযোগ দিতে হবে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাট গাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদ দ্রুত পাখিটি বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com