চীনা সরকারের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পেলেন নড়াইলের লোহাগড়ার রিয়াজ

নড়াইল প্রতিনিধি

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চীনা সরকারের মর্যাদাপূর্ণ Chinese Government Scholarship (CSC) অর্জন করেছেন নড়াইলের শিক্ষার্থী রিয়াজ হোসেন। তিনি চীনের স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় Harbin University of Science and Technology-তে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।
চীনা সরকারের এই পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির আওতায় তিনি সম্পূর্ণ টিউশন ফি, আবাসন সুবিধা, চিকিৎসা বীমা এবং মাসিক শিক্ষাবৃত্তি (স্টাইপেন্ড) পাচ্ছেন। তিন বছর মেয়াদি মাস্টার্স প্রোগ্রামে রিয়াজচ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ লাভ করেছেন।

জানাগেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের চর-ঝামারঘোপ গ্রামের মোঃ মন্টু মোল্যার ছেলে রিয়াজ হোসেন তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন লোহাগড়া লাহুড়িয়ার হাজী মোফাজ্জেল স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ থেকে। রিয়াজ বিদ্যালয়টি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ঢাকার গুলশান কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর সিটি ইউনিভার্সিটি (City University) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিষয়ে স্নাতক (BSc) ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার লক্ষ্যে তিনি চীনা সরকারের বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে Chinese Government Scholarship (CSC) অর্জন করে চীনের হারবিন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেন।

নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রিয়াজ বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রিয়াজ হোসেন বলেন, “যারা ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পেতে চান, তাদের প্রথম থেকেই একাডেমিক ফলাফল ভালো রাখার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং নিজের দক্ষতা (Skills) বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, গবেষণার প্রতি আগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করা সম্ভব।”
রিয়াজ হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, “আমার এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আমার পরিবার, শিক্ষক এবং এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার ফল। আমি চাই, নড়াইলের তরুণ প্রজন্ম উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখুক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিক।”

তাঁর এই অর্জনে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দেওয়া সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আরো দেখুনঃ