কুমিল্লার দেবিদ্বারে গত দুই দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও বাকিদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও নারী।

বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আশরাফ হোসেন সোহাগ।
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে কুকুরে কামড়ে আহতদের ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। ফলে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ফার্মেসীতে কিছু ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে চড়ামূল্যে।
আহতরা হলেন, দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামের রহিমা বেগম (৫৫), দেবিদ্বার পৌর এলাকার রাবিয়া আক্তার, শিবনগর গ্রামের মানহা আক্তার, ছোট আলমপুরের মো.আনাছ, নামির হাসান, মো. জাভেদ, মো. ইয়াছিন, ছায়া রানী, ইমন হাছান, মোসা. শারমিন আক্তার, আব্দুল্লাহ, ধামতী গ্রামের কারিমা আক্তার, বারেরা এলাকার তানভীর, হাদিপুর গ্রামের মোসা. মাইশা আক্তার, মুরাদনগর উপজেলার বাইরা গ্রামের মো. ইশান মিয়া, ও মো. আবির হোসেন, গুনাইঘরের আমেনা বেগম, রাজামেহারের মেহেরিমা আক্তার, বিজলী পাঞ্জারের আনোয়ারা বেগম, জান্নাত আক্তার, ফতেহাবাদের মরিয়ম আক্তার, মো. আয়ান, তাহমিনা আক্তার ও রসুলপুরের মো. আরিফুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

আহত নামির হাসানের বাবা নাজমুল হাসান নাহিদ বলেন, একটি লালচে-হালকা ডোরাকাটা রঙের পাগলা কুকুর গত দুদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করছে। এটি রাস্তায় দৌড়াচ্ছে আর সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। কুকুরটির হামলায় সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে শিশুরা। তাদের অনেকের গলা, পিঠ ও পায়ের মাংস আলাদা করে ফেলেছে। এ ঘটনায় মুহুর্তে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে ভ্যাকসিন টিকা না থাকায় কেউ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আবার কেউ মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
আহত আরিফুল ইসলামের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেসহ গতদুই দিনে ২৪ জনকে কুকুর কামড়িয়েছে। কামড়ে কারও গলায় কারও হাতে কারও পায়ের মাংস আলাদা হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে কানের নিচে গলায় কামড়িয়ে মাংস আলাদা করে ফেলেছে। ছেলেকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ভ্যাকসিন নেই। বাহির থেকে কিনে ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে। বাহিরের ফার্মেসীতে ভ্যাকসিনের অনেক দাম রাখা হচ্ছে।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স`রমেডিক্যাল অফিসার ডা. আশরাফ হোসেন সোহাগ বলেন, গত দুইদিনে প্রায় ২৪জনকে কুকুরের কামড়ে আহত করেছে, তাদের সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকজন শিশুর হাত, পা-পিঠে ও গলায় কামড়িয়ে মাংস আলাদা করে ফেলেছে তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নেই।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “পাগলা কুকুরের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই কুকুরটি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, কুমিল্লায় কোথাও ভ্যাকসিন নেই, সবগুলো হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট চলছে। আমরা ভ্যাকসিন টিকা ক্রয় করার জন্য চেষ্টা করছি। দেবিদ্বারে কুকুরে কামড়ে যারা আহত হয়েছে তাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করে দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন রোগীকে দেয়া হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com