নীলফামারীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নাছরিনকে হত্যার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নীলফামারী প্রতিনিধি

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নাছরিন নাহারকে শারীরিক নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগে নীলফামারীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঘাতক স্বজনদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) নীলফামারী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতা মোঃ আব্দুল জব্বার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় গৃহবধূ নাসরিন নাহার এর মা,ভাই সহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল জব্বার জানান, তার মেয়ে নাছরিন নাহারের প্রথম স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে নীলফামারীর ফকিরগঞ্জ লালপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখে-শান্তির কথা চিন্তা করে উপহারসামগ্রীসহ নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়।
মান্নানের প্রথম স্ত্রীর ছেলে এবং স্বজনরা নাছরিনের ওপর ধারাবাহিকভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালাতে থাকে। এর আগেও একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয়। পরবর্তীতে আসামি পক্ষ নতুন করে আরও তিন লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি তোলে।
নিহতের পিতা অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জামাই ও তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে-বউরা মিলে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং নাছরিনকে টাকা নিয়ে আসার জন্য আমাদের বাড়িতে পাঠাতে চায়। নাছরিন এতে অস্বীকার করলে আসামিরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে নাছরিনের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে পরবর্তীতে তারা নাছরিনের মৃতদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের সহায়তায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় একটি মামলা (জিআর-৩৩৯/২৬) দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে মামলার আসামিগণ এখনো পলাতক রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
এ সময় নীলফামারী জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন