নীলফামারীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ছবিতে জুতার মালা
সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী:

রেলওয়ে কারখানার ব্রাকবোন ড্রেন সৈয়দপুর পৌরসভা নিজেদের দাবী করে স্থায়ী সবজি বাজার নির্মানের দূর্নীতির সংবাদ স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ঐ পত্রিকার সাংবাদিকের ছবিতে জুতার মালা পড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় টাঙ্গিয়ে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। এতে সুধী মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
অবাঙ্গালী অধ্যুষিত নীলফামারীর রেলের শহর সৈয়দপুরে ১৯৮৪ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভূমি প্রশাসনের মাধ্যমে ২৫.৭৫ একর জমি লিজ দেয় সৈয়দপুর পৌরসভাকে, এখানে উল্লেখ থাকে যেখানে রেলের বাজার আছে সেই জমিতে শুধু উন্নয়ন কাজে অনুমতি দিতে পারবে পৌরসভা। এছাড়া জমি, রাস্তা-ঘাট, বাজার, মসজিদ পৌরসভার নিকট হস্তান্তর করে। এর পর থেকেই শুরু হয় রেলের জমি দখল করে বহুতল ভবন, বাজার, মার্কেট, আবাসিক হোটেল, বাসা নির্মান। এসব দখলদার ভূমিস্যুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে রেল কর্তৃপক্ষের গত ১৪ই এপ্রিল ২০২২ রেলে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হুসাইন এর উপস্থিতিতে রেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুজ্জামান সৈয়দপুর আধুনিক পৌর সবজি বাজারের নির্মান কাজ পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নিদের্শ দেন।
এ রূপ কর্মকান্ডে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে পৌরসভার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সহ ভূমিদস্যুরা সাংবাদিক মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে শহরে শাস্তির দাবী চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। অপর দিকে সামাজিক ভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিত ভাবে শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় জুতার মালা পরিহিত মোতালেব হোসেনের ছবির পোস্টার টাঙ্গিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল করে।
এ বিষয়ে মোতালেব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে রেলের লোহা চুরি, জমি দখলের সংবাদ প্রকাশিত করে আসছি এরই ধারাবাহিকতায় সৈয়দপুর পৌরসভা রেলের ব্যাকবোন দখল করে স্থায়ী মার্কেট নির্মান করছে। সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে তারা আমাকে ঘিড়ে ধরে পাঁচ মাথা মোড়ে মারপিট করে এর পর রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ মার্কেট নির্মান বন্ধ করে দিলে স্থানী সুবিধা ভোগী অসৎ ব্যবসায়ী ভূমিদস্যু ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার যোগসাজসে এ কাজগুলো করছে। এবিষয়ে থানায় একটি মারপিটের মামলা করেছি। আর সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিফা আক্তার জাহান বেবি জানান, এ নির্মান কাজগুলো শুরু হয় সাবেক মেয়র মৃত আক্তার হোসেন বাদলের সময়ে, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর অসমাপ্ত কাজগুলো করছি।