কুমিল্লার তিতাসে প্রতারক সালাউদ্দিনের খপ্পরে নারান্দিয়া ইউনিয়নের ভাটিবন গ্রামের সহজ সরল ১০ নারী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কড়িকান্দি গ্রামের মাষ্টার বাড়ির নূরল ইসলামের ছেলে সালাহউদ্দিন স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে মাছিমপুর কৃষি ব্যাংক শাখা থেকে লোনের ব্যবস্থা করে দিবে বলে ভাটিবন গ্রামের অন্তত ১০ জন মহিলার কাছ থেকে নগদ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা, ব্ল্যাংক চেক, সাক্ষরযুক্ত খালি ট্যাম্প, আইডি কার্ড ও ছবি নেয়। পরে তাদেরকে মাসের পর মাস ঘুরাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে বেশি চাপ দিলে সে তার শ্বাশুড়িকে বাদী করে গ্রুপ লিডার শাহিনূরের নামে চেক জালিয়াতির মামলা করে। অভিযোগে সে শাহিনুরের কাছ থেকে সাইত্রিশ লক্ষ টাকা পাবে বলে দাবী করে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ সালাহউদ্দিন তার একজন আত্মীয়তার পরিচয়ে ভাটিবন গ্রামে আসে এবং কিস্তির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দিবে বলে জানায়। তার কথায় বিশ্বাস করে ভাটিনবন গ্রামের অন্তত ১০ জন মহিলা তাকে নগদ টাকা, চেকের পাতা, খালি স্ট্যাম্প, আইডি কার্ড ও ছবি তাকে দেয়। সে লোনের ব্যবস্থা না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে বাঁচতে উল্টো চেক ডিসঅনারের মামলা করে।
সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে যারা প্রতারিত হয়েছেন তারা হলেন,নারান্দিয়া ইউনিয়নের ভাটিবন সরকার বাড়ির জসিমউদদীনের স্ত্রী আখিনূর। তার কাছ থেকে নিয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক কড়িকান্দি শাখার দুইটি ব্লাংক চেক, মূল আইডিকার্ড এবং নগদ ত্রিশ হাজার টাকা। একইভাবে আল আমিনের স্ত্রী ঝুমুরের কাছ থেকে স্বাক্ষরযুক্ত ২টি খালি চেক, আইডি কার্ডের ফটোকপি, খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা। শাহ আলমের স্ত্রী লিজার কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ও ২টি চেকের পাতা, শাহজালালের স্ত্রী ডলির কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা, ২ টি চেকের পাতা, খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর। মফিজ উদ্দিনের স্ত্রীর কাছ থেকে সত্তর হাজার টাকা ২ টি খালি চেকের পাতা, স্বপনের স্ত্রী খুকির কাছ থেকে ২ টি চেকের পাতা, মালয়েশিয়া প্রবাসী হাসিনার স্ত্রীর কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা সোনালি ব্যাংকের ২টি চেকের পাতা, ইলিয়াসের স্ত্রী শাহিনুরের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ও ২ টি চেকের পাতা, স্ট্যাম্পসহ, মজিদপুর ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের শাহজাহানের স্ত্রী সালমার কাছ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা ও ২টি চেকের পাতা।
এবিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, শাহিনুর একজন ফ্রড, সে আমার শ্বাশুড়িসহ চার পাঁচজনের কাছ থেকে সাঁইত্রিশ লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছে। এগুলো তাদের বিষয় আমি জানি না। আমি কারো কাছ থেকে কোন চেক কিংবা টাকা নিই নি।
অন্য দিকে শাহিনূরের বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনারের মামলার বাদী ফুলেছা আক্তার বলেন, আমি টাকা পাই সত্য এজন্যই মামলা করেছি। শাহিনুর আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছে এবং প্রবাসে তার স্বামীকে ব্যবসার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। আমি এত কিছু বুঝি না টাকা চাই। কারণ টাকার জন্য আমার সংসার ভেঙে যাবার উপক্রম। নিরুপায় হয়ে মামলা দায়ের করেছি। অন্য কারো কাছ থেকে চেক নিলে তো তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দিতে পারতাম।
কড়িকান্দি গ্রামের একাধিক লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বলেন সালাহউদ্দিন একজন নষ্ট ছেলে। সে প্রতিটি গ্রামে ফ্রডবাজি, ধোঁকাবাজি করেছে। কাউকে টিউবওয়েল দিবে, কাউকে টয়লেট দিবে, কার্ড করে দিবে বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। সে ই শাহিনুরসহ অন্যদের কাছ থেকে চেক জালিয়াতি করে তার শ্বাশুড়িকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। সে একজন চিহ্নিত প্রতারক ও ঠকবাজ।
কৃষি ব্যাংক মাছিমপুর শাখার ম্যানেজার জানিক উদ্দিন বলেন, নাছির উদ্দীন কিংবা সালাহউদ্দিন ব্যাংকের কেউ না। তারা সম্ভবত প্রতারক। তিতাসে একটি প্রতারক চক্র কৃষি ব্যাংকের বদনাম করছে। গ্রাহকদের সর্তক থাকা উচিত এবং কেউ এধরনের প্রস্তাব করলে সরাসরি ব্যাংকে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো।
এমএফ/অননিউজ
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com