বাগমারায় ইউপি সদস্যের পকেটে প্রতিবন্ধী ভাতার ১২ সিম কার্ড, টাকা তুলতে এসে ধরা

বিশেষ প্রতিবেদক

রাজশাহীর বাগমারায় একসঙ্গে ১২টি সিম কার্ডের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক হন ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম (হালকা হলুদ রঙের টিশার্ট পরিহিত)। ইউনিয়নের মাড়িয়া মোড়ে এক বিকাশ এজেন্টের কাছে ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে তিনি এলাকাবাসীর হাতে আটক হন। এ সময় তার কাছে থেকে ১০টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। শহিদুল ইসলাম গোবিন্দপাড়া ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রতিবন্ধী সেজে নিজের নামসহ বাবা, বোন ও ভগ্নিপতিদের নামেও তিনি ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তদন্তেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ইউনিয়নের মাড়িয়া মোড়ে বিকাশ এজেন্ট এনামুল হকের দোকানে ভাতার টাকা তুলতে যান ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন অপারেটরের ১০টি সিম কার্ড বিকাশ এজেন্টের কাছে দেন তিনি। বাকি দুটি সিম কার্ড তাঁর (শহিদুল) মুঠোফোনে লাগানো ছিল। একসঙ্গে এতগুলো সিম থেকে টাকা তুলতে দেখে উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তাদের সঙ্গে শহিদুলের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে দোকানের বাইরে আনা হয়। এ সময় শহিদুলের পক্ষের লোকজনও সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা। তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মাকসুদ রুপক বলেন, বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ১২টি সিম কার্ডের মধ্যে ১০টি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়।

ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, তারসহ বাবা, ভাই, ভাতিজির নাম প্রতিবন্ধী তালিকায় আছে। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। তিনি আরো বলেন , ‘আমি এবার চিয়ারমেন পদে ভুট করবের চাইছি। এই কারণে চিয়ারমেনের লুকেরা ষড়যন্ত্র করি এই কাজ করিছে।’

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সরকার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বর্তমানে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়। এই টাকা প্রতি তিন মাস পরপর সংশ্লিষ্ট ভাতাভোগীর বিকাশ হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হয়। বিকাশ এজেন্ট এনামুল হক জানান, ওই ইউপি সদস্য প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ওঠানোর জন্য তার কাছে ১০টি সিম কার্ড জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

গোবিন্দপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের সময় থেকে ওই ইউপি সদস্য প্রায় অর্ধশতাধিকেরও বেশি সুস্থ সবল মানুষকে প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। সিমগুলো নিজের ও স্বজনদের নামে নিবন্ধিত। এরমধ্যে উদ্ধার হওয়া ১০ টি সিম কার্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি নিজের হেফাজতে নিয়েছেন ।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগে তিনি এই অফিসে যোগদানের পর জানতে পারেন, ওই ইউপি সদস্য নিজেসহ স্বজনদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা নিচ্ছেন। তদন্তের পর ঘটনার সত্যতাও পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে সিমগুলোতে ভাতার টাকা ঢুকে যাওয়ায় কিছু করা যায়নি। ভবিষ্যতে ওই ইউপি সদস্য আর ভাতার টাকা পাবেন না। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

আরো দেখুনঃ