বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি কৃষি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। আর পুকুর খননের নামে বিক্রি করা হচ্ছে ফসলি জমির টপসয়েল। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে আবার অন্যদিকে ট্রাক্টরযোগে মাটি পরিবহণের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাকা রাস্তা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ উপজেলায় পুকুর খনন চক্রের মুল হোতা হচ্ছেন তাহেরপুর পৌর এলাকার আরিফ হোসেন এবং গোয়াকান্দি ইউনিয়নের হাসনাত নামে এলাকার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি। মুলত তাদের নেতৃত্বেই চক্রটি কয়েকটি গ্রæপে বিভক্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। সূত্রমতে, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের জলপাইতলা মোড়ের পাশে একটি প্রজেক্টের নামে পুকুর খনন করে কৃষি জমির উর্বর মাটি ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছে।
পুকুর খনন চক্রের মুল হোতা হাসনাত এবং রামারামা গ্রামের স্থানীয় আ.লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, মুনছুর রহমান ও চেউখালী গ্রামের পারভেজ আলীর নেতৃত্বে এই প্রজেক্টের কাজ চলছে।
এ প্রসঙ্গে চক্রের মুল হোতা হাসনাত জানান, প্রজেক্টের মাধ্যমে তারা রামরামা গ্রামের কৃষক আমীর আলীর নিকট থেকে পাঁচ লাখ টাকায় মাটি কিনে নিয়ে পুকুর খনন করে দিচ্ছেন। তাছাড়া একই ইউনিয়নের বাগবাজারের পাশে কৃষি জমিতে মাটি বিক্রয়ের প্রজেক্ট করেছেন আরিফ নামে চক্রের আরেক হোতা।
তেলিপুকুর গ্রামের মুনছুর রহমান বাগ নামে এক কৃষকের জমিতে বর্তমানে ওই প্রজেক্টের কাজ চলছে। কৃষক মুনছুর রহমান বাগ জানান, তার পুকুর খনন করে দেওয়া জন্য পুকুর খননকারী আরিফ দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে তার জমির মাটি কিনে নিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমোতি ছাড়াই গোয়ালকান্দি, গণিপুর, ঝিকরা, মাড়িয়া, গোবিন্দপাড়া, নরদাশ, শুভডাঙ্গা ও সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রজেক্টের নামে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে তিন ফসলি কৃষি জমির উর্বর মাটি ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে।
পাকা সড়কের ধারে প্রজেক্টের নামে এসব পুকুর খননের মাটি ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় ও অন্যত্র পরিবহণের সময় মাটি পড়ে পাকা রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপর পড়ে থাকা ধূলামাটি কাঁদামাটিতে পরিণত হয়ে বাড়ছে দূর্ঘটনা।
বুধবার সকালে বৃষ্টির পর বাগবাজার থেকে হামিকুৎসা বাজারে চলাচলের সময় প্রায় অর্ধশতাধিক বাইকার চালক দূর্ঘটনার শিকার হন। এতে আহত হয়ে সুমন ও শাহীন আলমসহ ছয়জন বাইকার চালক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত মোট ২১টি এক্সেভেটর (ভেকু) ভেঙ্গে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com