বাগমারায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় লীজ নেওয়া একটি পুকুরে বিষ দিয়ে চাষকৃত সব মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া লীজ গ্রহীতাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী দ্বীপপুর ইউনিয়নের খাঁপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে মামনুর রশিদ মানিক বাদী হয়ে কসবা কবিরাজপাড়া গ্রামের আমান উল্লাহ, একই গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ও ডাক্তা গ্রামের এসরাইল হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মামনুর রশিদ মানিক দ্বীপপুর ইউনিয়নের খাঁপুর গ্রামের লিকড়া বিলের দক্ষিণ দিকে টিউরবিল নামক স্থানে জমির মালিকদের নিকট থেকে মাছ চাষের লক্ষ্যে ৩৫ বিঘা জমি ১২ বছরের জন্য লীজ নিয়ে পুকুর খনন করেন।
এ জন্য জমির মালিকরা ৩০০ টাকা মূল্যমানের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়ে লীজ গ্রহীতাকে চুক্তিনামাও প্রদান করেছেন। এরপর মানিক নিজ দায়িত্বে পুকুরটি খননের পর থেকেই ৯ বছর ধরে ওই পুকুরে সুষ্ঠুভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন।
সম্প্রতি কসবা কবিরাজপাড়া গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে আমান উল্লাহ, একই গ্রামের মৃত নজের আলীর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, ডাক্তা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে এসরাইল হোসেন, একই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে আফজাল হোসেন ও কাচারী কোয়ালীপাড়া গ্রামের মৃত নগেন চন্দ্রের ছেলে সন্তুনাথ লীজ গ্রহীতা মানিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তাদের দাবি ওই পুকুরে মাছ চাষ করতে হলে প্রতি বছর তাদের পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা না দিতে হবে। চাঁদা না দিলে তাকে তারা ওই পুকুরে মাছ চাষ করতে দিবেন না বলে হুমিকি দেয়।
তাছাড়া গত ১১ মে সন্ধ্যায় খাঁপুর বড় মোড়ের পাশে আসামিরা লীজ গ্রহীতা মামনুর রশিদ মানিককে একটি লিখিত নোটিশ দিয়ে বলেন, চাঁদা না দিলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই পুকুরের সব মাছ ধরে নিয়ে পুকুর ফাঁকা করে দিতে হবে। তা না হলে ওই পুকুরে বিষ দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা মানিকের উপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসলে মানিক সেখানে থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত মোয়াজ্জেম হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওই পুকুরের লীজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ জন্য তারা তাকে মাছ ধরে নিয়ে পুকুরটি ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com