বাগমারার লাউপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার জের ধরে গতকাল রোববার সকালে একটি পক্ষ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এনিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারী নীতমালা লংঘন করেছেন। তিনি সভাপতি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে তার আপন ভাগনে ইদ্রিস আলীকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ২০০৯ সালে ডিগ্রী পাশ করেন।
নিজের স্বার্থসিদ্ধীর জন্য সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান বেশ কিছু শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় কোটি টাকার মত হাতিয়ে নেন। এছাড়া তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রীকে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। তারা মামা, ভাগনে ও স্ত্রী মিলে অত্র বিদ্যালয় থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে তাদেরকে নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহনা শুরু করেন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সভাপতি আনিছুর রহমান স্থানীয় লোকজনকে নিয়োগ না দিয়ে দূর দূরান্ত থেকে বেশী টাকার বিনিময়ে শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে গোপন করে রাখেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শামীমা নাসরিনসহ বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক কর্মচারী মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী গা ঢাকা দেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলার কারণে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার বাহিনীর লোকজন মিলে অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয়।
প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান কিছু বহিরাগত লোকজন ভাড়া করে রোববার সকাল ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের এসে অফিসের তালা খুলে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযোগকারী শিক্ষক কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলীসহ বহিরাগতদের বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন দু’পক্ষে মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পেঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। আগামী মঙ্গলবার অফিসে গিয়ে অভিযোগটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন সবেমাত্র আমি এই উপজেলায যোগদান করেছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com