বাগমারার ভবানীগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার বাগমারা থানার এস.আই (নিরস্ত্র) আবু জাহেদ শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ভবানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দেউলিয়া চৌরাস্তার মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে পুলিশের মোবাইল ডিউটি পার্টি ও অভিযান পার্টি চলছিলো। এ সময় তিনচাকা বিশিষ্ট ব্যাটারি চালিত একটি অটো পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করে ভবানীগঞ্জ বাজার থেকে মচমইল বাজারের দিকে যাওয়া চেষ্টা করে। এ সময় চেকপোষ্টে দায়িত্বরত পুলিশ ওই অটো আটক করে। পরে ওই অটোর পিছনে থাকা বস্তা খুলে ২৩৮৮ বোতল পটেন্সী অ্যালকোহল, মাদক ক্রয় বিক্রয়ের নগদ ১৪ হাজার ৮০ টাকা এবং দুইটি মোবাইল ফোনসহ অটো চালক সিয়ামুর রহনাকে আটক করা হয়। আটক অটো চালক সিয়ামুল রহমান পুলিশের কাছে স্বীকার করে জানায় যে, সে ভবানীগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয় কলেজ মোড় সংলগ্ন প্রভাষক হোমিও ফার্মেসী থেকে ওইসব পটেন্সী অ্যালকোহল নিয়ে ভাড়াটিয়া হিসাবে মচমইল বাজারে শাকিল খান হোমিও ফার্মেসীতে দিতে যাচ্ছিল। তার দেওয়া তথ্যমতে পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মচমইল বাজারের শাকিল খান হোমিও ফার্মেসীর মালিক শাকিল খান এবং ভবানীগঞ্জ বাজারের প্রভাষক হোমিও ফার্মেসীর কর্মচারী সুলতান আহম্মেদকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় প্রভাষক হোমিও ফার্মেসীর মালিক প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান, আটক হওয়া শাকিল খান হোমিও ফার্মেসীর মালিক শাকিল খান, প্রভাষক হোমিও ফার্মেসীর কর্মচারী সুলতান আহম্মেদ এবং আটো চালক সিয়ামুর রহমানকে আসামী করে ২০১৮ সালের মাদ্রক দ্রব্য আইনের ৩৬ (১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। আটক শাকিল খান, সুলতান আহম্মেদ ও সিয়ামুর রহমানকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে প্রভাষক হোমিও ফার্মেসীর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি মাদক ব্যবসায়ী নন। তিনি একজন লাইসেন্স প্রাপ্ত হোমিও চিকিৎসক। মেসার্স রেমিডন হোমিও ল্যাবরেটরি এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স ও অনুমোদ নিয়েই তিনি রোগীর চিকিৎসা জন্য ঔষধ হিসাবে পটেন্সী অ্যালকোহল ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পটেন্সী অ্যালকোহল একটি নেষা জাতীয় দ্রব্য। আর এই নেষা জাতীয় দ্রব্য প্রভাষক হোমিও ফার্মেসীতে অধিক পরিমান মজুদ রাখার দায়ে ওই ফার্মেসীর মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
if