বাগমারায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রকল্পের বিরোধ নিষ্পত্তিতে ফিরেছে স্বস্তি

আবু বাককার সুজন, বিশেষ প্রতিবেদক

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বাগমারার আলোচিত জোকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গত সোমবার রাতে হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউল ইসলামে মানবিক হস্তক্ষেপে এক বৈঠকের মাধ্যমে ওই মৎস্য চাষ প্রকল্প দখল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি মামলা ও দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

ওই বৈঠকে উভয় পক্ষই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেন বাগমারা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বাককার সুজন ও হাট গাঙ্গোপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আব্দুস সালাম।

জানা গেছে, বাগমারার নরদাশ ইউনিয়নের জোকা বিলে মৎস্য চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ হয়ে আসছিলো। সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগে প্রকল্পের সহ-সভাপতি জনাব আলীসহ কয়েকজন সদস্যকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ওই টাকা আদায়ের লক্ষ্যে আদালতে একটি মামলাও করা হয়। পুলিশী তদন্তে মামলার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালতে তার প্রতিবেদনও দাখিল করা হয়েছে।

এরপর বহিষ্কৃত জনাব আলী ওই মামলা থেকে বাঁচতে প্রকল্পের বর্তমান সভাপতি ও নগরীর পদ্মা গ্যালারীর সত্বাধিকাররী এফাজুর রহমানের বিরুদ্ধে আট কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগ তুলে আদালতে একটি হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেন। প্রকল্পের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে কয়েকদিন আগে প্রকল্পের মাছ লুটসহ প্রকল্পের এক সদস্যের ছেলেকে রাতের আঁধারে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠে।

এ বিষয়ে হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, বাগমারার আলোচিত জোকা বিল মৎস্য চাষ প্রকল্প দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মামলা নিয়ে খোদ পুলিশও বিব্রত হয়ে পড়েন।

কাজেই উদ্ভুত এই পরিস্তিতিতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে পুলিশ ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে বৈঠকে মাধ্যমে তাদের সম্মতিতেই দীর্ঘদিনের চলমান এই বিরোধ অবশেষে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

আরো দেখুনঃ