বাগমারায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে নারীর ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদক:

রাজশাহীর বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফাহিমা খাতুন নামে এক অসহায় নারীর বৈধ লাইসেন্সভুক্ত ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ফাহিমা খাতুন অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার আদালতে একটি মামলা করেছেন। ফাহিমা খাতুন এর আগেও যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের অবৈধ দখলের কবল থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্ধারের দাবিতে থানা ও আদালতে আরো তিনটি মামলা করেছেন।
এছাড়া জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও অভিযোগ দিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে তিনি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু আজও তার কোন প্রতিকার মেলেনি।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, টিকাপাড়া গ্রামের শাহ মো. শরিফুল ইসলাম গোয়ালকান্দি বাজারে ডিশ ও ইন্টারনেট সরবরাহ ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। আ.লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইমন আলীর হামলায় তিনি আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে তার স্ত্রী ফাহিমা খাতুন ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার সংসার পরিচালনার একমাত্র অবলম্বন ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেয়।
গত ১৬ জুলাই রাতে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ফাহিমা খাতুনকে ডেকে নিয়ে লাঞ্চিত করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আসাদুল ইসলাম নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলমসহ তার বিরুদ্ধে একটি হয়নারীমূল মামলা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে ফাহিমা খাতুন অভিযোগ করেন।
অপরদিকে আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, ডিশ ব্যবসা দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে মারধর এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এ কারণেই তিনি ছাত্রদলের ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন- সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।