বাগমারায় এক স্কুল শিক্ষক ও এক প্রবাসী নারীর মধ্যে একান্ত অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিব্রত হয়ে পড়েছেন থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসন।
প্রায় দেড়মাস ধরে প্রতিদিনই তারা একে অপরের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ অন্তরঙ্গতার বিষয় ও প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে থানা, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ইউপি কার্যালয় এমনকি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দ্বারে দ্বারেও ছুটে যাচ্ছেন এই প্রেমিক যুগল।
নিজেদের চরিত্রহননের এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে চরম বিব্রত হয়ে পড়েছেন বাগমারা থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনপাড়ার লোকজন। তাছাড়া অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক মুনছুর রহমান ও প্রবাসী নারী কামরুন নাহারের মধ্যে একান্ত অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এ নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষসহ শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরজমিনে এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, গণিপুর ইউনিয়নের আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুনছুর রহমান ও পোড়াকয়া গ্রামের প্রবাসী নারী কামরুন নাহারের মধ্যে সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
প্রবাসী কামরুন নাহার এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, মাষ্টার মুনছুর রহমান তার স্ত্রীর সহায়তায় তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রায় ৮ মাস ধরে তাকে নিয়ে একই বিছানায় রাত কাটিয়েছেন। কিন্তু এখন তাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে তিনি আদালতে নারী নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা করেছেন।
অপরদিকে অভিযুক্ত মাষ্টার মুনছুর রহমানও এক ভিডিও বক্তব্যে ওই প্রবাসী নারীকে প্রতারক আখ্যায়িত করে বিরুপ মন্তব্য করেন।
এদিকে ওই স্কুল মাষ্টার ও প্রবাসী নারীর মধ্যে একান্ত ঘনিষ্ঠতা এবং একই বিছানায় রাত কাটানোর বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজসহ পুরো উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ব্যাপক সামালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, মুনছুর মাষ্টার এবং ওই প্রবাসী নারীর অন্তরঙ্গতার বিষয় নিয়ে তাদের এমন অশালীন বক্তব্য সামাজিক অবক্ষয়ের শামিল।
আক্কেলপুর গ্রামের অপর এক ব্যক্তি জানান, শিক্ষকের সঙ্গে ওই প্রবাসী নারীর প্রেমের অন্তরঙ্গতার বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই মাষ্টার মুনছুর রহমানকে স্কুলে যাতায়াতের সময় এলাকার লোকজন ‘ওই যে লুচ্চা শিক্ষক যাচ্চে’ বলে তিরস্কার করছেন।
অপরদিকে পোড়াকয়া ও আক্কেলপুর গ্রামের একাধিক নারী-পুরুষ জানান, ওই শিক্ষক ও প্রবাসী নারীর মধ্যে অন্তরঙ্গতার বিষয় নিয়ে তারা পাল্টাপাল্টি চরিত্রহননের যে নেশায় মেতে উঠেছে তাতে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় গনিপুর ইউপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান রঞ্জুও একই ধরণের মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষক ও প্রবাসী নারীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের অত্যাচারে থানার পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের লোকজনও এখন বিব্রত।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com