বাগমারায় সেচ সংকট, ডিজেল নিতে শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষক
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাগমারায় জ্বালানি তেল (ডিজেল) সংকটের প্রভাব পড়েছে সেচ পাম্পগুলোতে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং আর ডিজেল সংকটে সেচের অভাবে ১৮ হাজার হেক্টর জমির বোরোচাষ হুমকির মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বোরো ক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেল নিতে সরাসরি শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে ছুটে আসেন এলাকার কৃষকরা।
শনিবার দুপুরে মচমইল বাজারস্থ সোহেল ফিলিং স্টেশনের চারদিকে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষককে সরাসরি শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর তা প্রসাশনের নজরে আসে। তাৎক্ষনিকভাবে ওই ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত হন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। এরপর প্রসাশনের নির্দেশে ওই ফিলিং স্টেশন থেকে অপেক্ষমান কৃষকদের শ্যালোমেশিনের ট্রাঙ্কি ভরে ডিজেল দেওয়া হয়।
এ সময় দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামের কৃষক ইসলাম সরদার বলেন, বিলসতি বিলে ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিন দ্বারা সেচ দিয়ে এবার তিনি ২০ বিঘা জমিতে বোরোচাষ করেছেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি ডিজেল সংগ্রহ করতে না পারায় তার সেচ পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে সেচের অভাবে তার ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।
অবশেষে অনেক কষ্টের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ তিনি ডিজেল পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। গনিপুর ইউনিয়নের দুবিলা বিলের শ্যালো চালিত সেচের মালিক জাফর আলীও একই মন্তব্য করেন। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত গভীর নলকূপ ও শ্যালোমেশিনে সেচ সুবিধার আওতায় বাগমারায় এবার মোট ১৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে শুধু ডিজেল চালিত গভীর নলকুপ ২শ’ ৪৮ টি আর শ্যালোমেশিন রয়েছে ১শ’ ৮০ টিরও বেশি। উপজেলা কৃষ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,জ্বালানি তেল সংকটের কারণে ডিজেল চালিত গভীরনলকূপ ও শ্যালোমেশিনগুলো দ্বারা বোরো ক্ষেতে সেচে দিতে কৃষকদের সাময়িকভাবে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই এই সমস্যা কেটে যাবে।