বাগমারার সর্বত্রই এখন মাদকের ছড়াছড়ি
আবু বাক্কার সুজন, বিশেষ প্রতিবেদক

বাগমারার প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লা সর্বত্রই এখন মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষাথর্ীসহ উড়তি বয়সের যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে। এ কারণে সমাজে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্য দৌলতপুর মোড়ে এক প্রতিবন্ধী মুদি দোকানদারের নেতৃত্বে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী একটি চক্র মচমইল বাজারের চারপাশে, সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের পাশে, মচমইল ডিগ্রি কলেজের পাশে, দ্বীপনগর, কামনগর, বাইগাছা ও মাথাভাঙ্গা মোড় ও বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া মহল্লার সর্বত্রই এখন নেশাজাতীয় দ্রব্য পোটেনশিয়া, তাড়ি, চুয়ানী, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও গাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সামগ্রী সরবরাহ করে আসছে।
এছাড়া হাট গাঙ্গোপাড়া, দামনাশ, শিমলা, নরদাশ, মাধনগর, বাইগাছা, মচমইল, মাদারীগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, একডালা, হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, শিকদারি, একতারিয়া বাজার, ঝিকরা, কালীগঞ্জ, রনসিবাড়ী, কুলিবাড়ী, বাঘাবাড়ি বাজার এবং তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাসহ বাগমারা থানার পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সম্প্রতি মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর হাতের নাগালে সহজেই মাদক সামগ্রী পাওয়ায় বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষাথর্ীসহ উড়তি বয়সের যুবকরাও তা অবাধে সেবন করছে। ফলে যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে থানা ও বিভিন্ন তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ি পুলিশকে ম্যানেজ করেই বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারীরা নির্বিঘ্নে মাদক সামগ্রী ও নেশাজাতীয় দ্রব্য আদান-প্রদান ও সরবরাহ করে আসছে।
গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় তাড়ি ও চুয়ানী ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সমাজে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে। এ কারণে তিনি তার ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে গ্রামপুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে রস সংগ্রহ করা তাল গাছের জট কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এছাড়া কয়েকদিন আগে ইউনিয়নের জিল্লুর মোড়ে মাদক বিরোধী একটি র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণীর-পেশার প্রাায় পাঁচশতাধিক সচেতন মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
অপরদিকে গত রোববার নরদাশ ইউপির প্যালেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নরদাশ বাজারে এবং হাট মাধনগর বাজারে সচেতন নাগরিকের ব্যানারে মাদক বিরোধী র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে কোন কোন এলাকায় এলাকার চিহ্নিত নেশাখোর ও মাদক ব্যবসায়ীরাই সচেতন নাগরিকের ব্যানারে মাদক বিরোধী র্যালি ও মানববন্ধন করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে যেসব এলাকায় মাদকের প্রবনতা বেশি, সেইসব এলাকাকে চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সেই ক্ষেত্রে মাদক বা নেশা জাতীয় কোন দ্রব্যসহ স্পটে কাউকে পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তার সাজা বা শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটের সামনে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের সময় গণিপুর ইউনিয়নের তাহের একডালা গ্রামের আব্দুল হাকিম নামে এক মাদকসেবীকে পুলিশ হাতেনাথে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কয়েকদিন আগে ৬০ পিচ ইয়াবাসহ আলমগীর হোসেন ও মিঠু নামে এলাকার দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মাদবদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।