বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মধুমতি নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে চায়না দুয়ারী ও বেহুন্দি জাল। পাশাপাশি খালে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ পাটা। এতে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্য। যার ফলে প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে! দেশীয় মাছের উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র পরিবারগুলো খুব কমই দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছে।
প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান আরও জোরদারের দাবি স্থানীয়দের।
উপজেলার মধুমতি নদী, আঠারোবাঁকি নদী, কোদালিয়া, কেন্দুয়া, ধবলিয়া সহ বিভিন্ন বিল ও খালে অবৈধভাবে চায়না দুয়ারী জাল, বেহুন্দি জাল, ঘুনি ফাঁদ ও বিষ প্রয়োগ করে করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও খালে পাটা দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এসব অবৈধ উপকরণে বড় মাছের পাশাপাশি নির্বিচারে ধরা পড়ছে দেশীয় মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মধুমতি নদীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় দুই হাজার মিটার দীর্ঘ ৪০টি চায়না জাল ও চারটি বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। মৎস্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে মোট ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরের দিনে কোদালিয়া বিলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায়ের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ৩৮টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে পরে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মাছের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দুটি অবৈধ পাটা কেটে অপসারণ করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন আইরিন প্রতিবেদককে জানান, অবৈধ উপকরণ ব্যবহার করে মাছ শিকার ও জীব বৈচিত্র ধ্বংস করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত চলমান থাকবে। এছাড়া তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায় জানান,
“অবৈধ জাল ও পাটা ব্যবহার করে মাছ শিকার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।”
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনপ্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলেই বন্ধ করা সম্ভব হবে নির্বিচারে মাছ শিকার।
মোল্লাহাটের নদী-খাল ও বিলগুলোতে দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com