বেআইনিভাবে অর্পিত সম্পত্তির লিজ বাতিলের অভিযোগ: বিচার চেয়ে ডিসির দ্বারে প্রবীণ আবু সুফিয়ান

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী শহরের বাজার মৌজার অর্পিত সম্পত্তি অবৈধভাবে হস্তান্তরের প্রতিবাদে এবং নিজের নামে লিজ পুনর্বহালের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ আবু সুফিয়ান সরকার নামের এক প্রবীণ। বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের পর পুনরায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য ব্যক্তির নামে ইজারা দেওয়ার তথ্য সামনে আসায় এ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের নন্দলাল আগরওয়ালার নামের তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তিটি ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সালিয়ানা ৭,২০০ টাকা হারে সর্বমোট ২,৭০,৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ২০০৯ সালের জন্য লিজ পান মোঃ আবু সুফিয়ান সরকার। লিজের পর থেকে তিনি জমিটি নিজ দখলে রেখে ভোগ করছিলেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আরিফা সুলতানা নামের এক নারী জেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে বেআইনিভাবে জমিটি নিজের নামে লিজ করিয়ে নেন।

​আবু সুফিয়ান সরকার জানান, আরিফা সুলতানা লিজের শর্ত ভঙ্গ করে জমিতে থাকা মূল্যবান টিন, শালকাঠ ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জালিয়াতি প্রমাণিত হলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরিফা সুলতানার লিজ বাতিল করেন।

​তবে সম্প্রতি গোপন সূত্রে আবু সুফিয়ান জানতে পারেন, পূর্বে কোনো ভোগদখল না থাকা সত্ত্বেও অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূতভাবে জমিটি মোঃ সুলতান মাহমুদ ও মোঃ মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের নামে ১৪৩২ বঙ্গাব্দের জন্য নতুন করে লিজ দেওয়া হয়েছে।

​আক্ষেপ প্রকাশ করে আবু সুফিয়ান সরকার বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আরিফা সুলতানা আমাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছিল। তখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সাহায্য পাইনি। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজের জমিতে গিয়ে দেখি, মাত্র ১০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে সুলতান মাহমুদ ও মারুফ হোসেন হৃদয়ের নামে নতুন লিজের কাগজ তৈরি করা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিচার চেয়ে ডিসি অফিসে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি।আরো জানতে পেরেছি তারা জমি লিজ নিয়ে অন্য ব্যক্তির কাছে কিছু জমি উচ্চ মূল্যে বিক্রি করেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে আরিফা সুলতানা সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​অভিযোগের বিষয়ে নতুন লিজগ্রহীতা মারুফ হোসেন হৃদয়ের পিতা মোঃ আতাউর রহমান বলেন, “সরকারি সব নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমার ছেলে জমিটি লিজ নিয়েছে।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান বলেন, “কাগজপত্র ও নথিপত্র সঠিক থাকলে এরকম অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো দেখুনঃ