মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে অসিম দাসের আকুতি,এক টুকরো খোলা আকাশই শেষ আশ্রয়
নীলফামারী প্রতিনিধি।

রাত নামলেই যেখানে মানুষের মনে ক্লান্তি ভুলে ঘরে ফেরার তাগিদ থাকে, সেখানে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা চিনির কুঠি পোড়া পাড়ার অসিম দাস ও তার ছেলে শান্ত দাসের চোখে ঘুম আসেনা। ঘুম আসবেই বা কী করে? মাথার ওপর যে নেই কোনো স্থায়ী ছাদ, নেই নিজের বলতে এতটুকু ভিটেমাটি।
নিজের পৈতৃক সম্পত্তিটুকুও এক প্রভাবশালী জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ায়, আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক অনিশ্চিত ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ অসিম দাস ও তার স্ত্রী শান্তিবালা।
পেশায় জেলে অসিম দাস। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে বিভিন্ন খাল, বিল, নদী-নালা আর ডোবা থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেন। সেই যৎসামান্য আয়ে কোনোমতে একমুঠো অন্ন জোটে পরিবারের সদস্যদের।
ওসিম দাসের বড় ছেলে শান্ত দাস বুকভরা কষ্ট নিয়ে বলেন, আমরা ভূমিহীন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাতে শান্তিতে একটু ঘুমানোর জায়গাটুকুও আমাদের নেই। অভাবের কারণে সন্তানদের লেখাপড়াও করাতে পারছি না। সারাদিন মাছ ধরে একমুঠো ভাত হয়তো জোগাড় করি, কিন্তু নিজের কোনো ভিটেমাটি না থাকায় চরম শান্তিতে একটু ঘুমাতেও পারি না।
বর্তমানে স্থানীয় আজগর আলী নামে এক দয়ালু ব্যক্তির মাত্র ৪ শতক জমির ওপর ৭টি পরিবারের মোট ৩২ জন সদস্য কোনোমতে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। সেখানেই মানবেতর দিন কাটছে ওসিম দাসের ৬ ছেলে শান্ত দাস, আশু দাস, টেপু দাস, লক্ষণ দাস, সত্যেন্দ্র দাস, রমণী দাসসহ তাদের সন্তানদের।
বৃদ্ধা শান্তিবালা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, অন্যের জমিতে অনেক কষ্টে ঝুপড়ি ঘরে রাত কাটাই। আমাদের নিজস্ব সম্পত্তিটুকুও জোর-জুলুম করে দখল করে খাওয়া হচ্ছে।
ডিসি স্যার বরাবর জমি উদ্ধারের জন্য আবেদন করেছি। সরকার যদি আমাদের থাকার মতো একটুখানি জমি দিত, তবে সন্তানদের নিয়ে জীবনের শেষ বয়সটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।
একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, আর রাতে শান্তিতে একটুখানি ঘুমানোর আকুতি নিয়ে খাস জমি বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জানিয়েছে এই অসহায় পরিবারগুলো। যেখানে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই তারা খুঁজে পাবেন বেঁচে থাকার পরম স্বস্তি।
ইটাখোলা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, মহব্বত আলী নামে এক ব্যক্তির দখলে জমি গুল রয়েছে কোট থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে, আমাদের আমিন জমিগুল মাপ দিয়ে ম্যাপ তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা পেলেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।