মানবিক ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম বদলির খবরে হতাশ বাগমারাবাসী
আবু বাককার সুজন, বাগমারা (রাজশাহী)

মানবিক ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের বদলির খবরে হতাশ হয়ে পড়েছেন বাগমারাবাসী। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে তিনি বাগমারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন অসহায়দের ক্ষেত্রে মানবিক আর অপরাধ দমনে ছিলেন কঠোরভাবে সোচ্চার।
উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও ভিন্নধর্মীয় এই দু’টি গুণ জনগণের কাছে প্রতিফলিত হওয়ায় উপজেলাজুড়ে প্রশংসায় ভাসছিলেন এই মানবিক ইউএনও। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের মানবিক হস্তক্ষেপে অনেক অসহায় পরিবার উপকৃত হয়েছেন।
অপরদিকে অবৈধ পুকুর খনন ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, ঘুস-দুর্নীতি রোধ, বাল্য বিবাহ রোধ এবং মাদক বিরোধী তৎপরতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরাধ দমনে তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় এ উপজেলার সাধারণ মানুষ এতোদিন স্বস্তিতে ও শান্তিতে ছিলেন।
পুরো উপজেলাজুড়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু গত সোমবার রাতে হঠাৎ এই মানবিক ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাবাসী হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ নিয়ে অনেকেই সোশ্যাল প্লাটফর্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্নভাবে তাদের প্রতিক্রিয়ার কথা ব্যক্ত করে স্ট্যাটাস দেন।
সূত্রমতে, সম্প্রতি বাগমারায় বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও’র লোকজন শতশত গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেন। ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের মানবিক হস্তক্ষেপে প্রতারিত গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফিরে পেয়েছেন। আবার কোন কোন এনজিও’র লোকজন টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের কারাগারে যেতে হয়েছে। ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের এমন মানবিক গুণের কারণে উপকারভোগী ওইসব লোকজন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অপরদিকে ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের মানবিক হস্তক্ষেপে মাথা গুজার ঠাঁয় পেয়েছেন কাঁঠবাড়ী গ্রামের তালাকপ্রাপ্ত আংগুরি বিবি নামে এক অসহায় নারী। এছাড়া প্রতিবেশির প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ একটি পরিবারকে ২১ দিন পর মুক্ত করেন ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম।
এছাড়া ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে পচা ও নিম্নমানের চাল মজুত করার দায়ে ওই গুদামের উপপরিদর্শককে প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন তিনি। পরে তাকে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়। তাহেরপুর কলেজ চত্বরের ভেতরে ও কলেজের চারদিকে সাতটি পুকুরসহ প্রায় তিন একর ভিপি সম্পত্তি অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করেন এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ভূয়া ডাক্তারকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড দিয়েছেন তিনি।
অভিযান চালিয়ে বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ড্রাম চিমনির ইটভাটা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে এবং কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন জনের কারাদন্ড, জরিমানা এবং ড্রেজার (ভেকু) ভেঙ্গে অকার্যক্রর করে দিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের এমন কঠোর পদক্ষেপে এ উপজেলায় পুকুর খনন পুরোদমে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে এই মানবিক ইউএনও মাহবুবুল ইসলামের বদলির খবর পাওয়া মাত্র অবৈধ পুকুর খননকারী চক্র আবারও পুকুর খননের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।