মেঝে খুঁড়তেই বেরুলো গর্ভধারিণী মায়ের লাশ, ঘাতক ছেলে পলাতক
সুভাষ বিশ্বাস নীলফামারী।

গর্ভধারিণী মাকে নৃশংসভাবে হাতুড়ি বা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন। এরপর সেই রক্তের দাগ ঢাকতে এবং পাপ লুকাতে নিজের শোবার ঘরের মেঝে খুঁড়ে মাকে পুঁতে রাখলো পাষণ্ড ছেলে।
শুধু পুঁতে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি, স্বাভাবিকভাবে সেই ঘরের চৌকিতেই রাত কাটিয়েছে ঘাতক। এমনই এক লোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে।
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে ঘাতক ছেলে জুয়েল মিয়ার (৪০) ঘরের মেঝে খুঁড়ে ষাটোর্ধ্ব মা মারুফা বেগমের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। এই পৈশাচিক ঘটনার জানাজানি হতেই এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুন) শেষবারের মতো প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়েছিলেন মারুফা বেগমকে। এরপর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পেছনে যে এত বড় বীভৎসতা লুকিয়ে আছে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং ৩০ মে (শনিবার) ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন। একই দিন পারিবারিক কলহের জেরে জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। ৩১ মে (রবিবার) লাভিন তার মাকে জুয়েলের জিম্মায় রেখে জলঢাকায় শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান।
বুধবার দুপুরে লাভিন বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও মায়ের সন্ধান না পেয়ে যখন পুরো পরিবার দিশেহারা, ঠিক তখনই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লাভিনের স্ত্রী ঘরের বিছানার তোষক ঠিক করতে যান। তোষক তুলতেই তার চোখ চড়কগাছ! বিছানায় জমাট বাঁধা রক্তের কালচে দাগ। তার চিৎকার শুনে লাভিনসহ প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
রক্তের দাগ ধরে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে সবার নজর পড়ে ঘাতক ভাই জুয়েলের শোবার ঘরের দিকে। দেখা যায়, ঘরের মেঝের একপাশের মাটি কাঁচা এবং সেখানে একটি সদ্য ফাটল ধরেছে। সন্দেহ তীব্র হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে ঘরের মেঝে খোঁড়া শুরু হলে বেরিয়ে আসে নিখোঁজ মায়ের নিথর দেহ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরতহাল রিপোর্টে লাশের মাথার সামনের বাম দিকে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুদিন আগে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে মাকে খুন করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া আত্মগোপনে রয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও তার ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,প্রাথমিকভাবে শতভাগ ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে জুয়েলই তার মাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছিল। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাষণ্ড ও পলাতক ঘাতক জুয়েলকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।