খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দ্বিতীয় শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায়ে ধর্ষক মো. শাহিন (৫৩) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে খাগড়াছড়ি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (৬ জুলাই ) খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জর্জ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়েলা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মো.শাহিন রামগড় উপজেলার ২ নং পাতাছড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের লেদু মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, "ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই প্রথম মামলার রায়। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনার মাত্র ১১ মাস ১৪ দিনের মাথায় এ মামলার রায় দেওয়া হলো। মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে দশ জন এবং আসামিপক্ষে তিন জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম রামগড়ের নাকাপা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই ঘটনার দিন দুপুরে মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নাকাপা বাজারস্থ 'মিম হোটেল' নামক দোকানের সামনে পৌঁছালে দোকানদার মো. শাহিন তাকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান। আসামি পূর্ব পরিচিত ও স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সম্পর্কসূত্রে 'নাতিন' ডেকে প্রথমে তাকে দোকানে বসিয়ে বিস্কুট ও কেক খেতে দেন।
দোকান থেকে বের হতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমে র সহপাঠীরা তাকে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে দোকানে কোনো ক্রেতা বা লোকজনের উপস্থিতি না থাকার সুযোগে, আসামি শাহিন ভিকটিমকে দোকানের পেছনের অংশে বেড়ার আড়ালে নিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় রামগড় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
মামলার রায়ে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা। রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এত দ্রুত রায় দিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই রায়ের ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com