সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে জাপা প্রার্থীর প্রচারণা, জনমনে ক্ষোভ
নীলফামারী প্রতিনিধি।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রশাসনের প্রাথমিক সতর্কবার্তাকেও তোয়াক্কা করছেন না নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর – কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম। সোমবার বিকেলে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে পথসভা ও স্লোগান দিয়ে গণসংযোগ করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা চালান সিদ্দিকুল আলম। মাগুড়া চেকপোস্ট ও বাসস্ট্যান্ডসহ জনবহুল এলাকায় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তিনি পথসভা ও গণসংযোগ করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘লাঙ্গল, লাঙ্গল’ বলে উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে পুরো ইউনিয়ন প্রদক্ষিণ করেন এবং প্রতিটি দোকানে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
এর আগেও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি আবারও একই কাজ করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রার্থী জনসভা, পথসভা, মিছিল কিংবা কোনো ধরনের উচ্চৈঃস্বরে প্রচারণামূলক গণসংযোগ চালাতে পারবেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বারবার সতর্ক করার পরেও নিয়ম না মানায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে।