রাজশাহীর বাগমারায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনায় সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
শনিবার রাতে সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের নিজ বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আব্দুল মালেক মণ্ডলের নির্দেশে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ককটেল, লোহার রড, স্টিলের পাইপ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়ি লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয় এবং তিনটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় বাড়ির গেট, উঠান ও বারান্দায় পড়ে থাকে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে ঘরের সব লাইট বন্ধ করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন।
এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির গেট, দেয়াল ও গ্রিলে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে গত ১৫ মার্চ ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে আব্দুল মালেক মণ্ডলের সঙ্গে বাদীর বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় প্রকাশ্যে তাকে ও তার পরিবারকে বোমা হামলা করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সংবাদ সম্মেলন
এদিকে ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ককটেল হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বাগমারা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন- এলাকায় তাঁর কোনো ব্যক্তিগত শত্রু নেই।
তিনি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখছেন। তার জনপ্রিয়তার কারণে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে তার বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়ে এ ধরনের ঘৃণ্য অপকর্ম করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাগমারা উপজেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভবানীগঞ্জ বাজারে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছিল। সেই অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি।
কাজেই সংবাদ সম্মেলন মাধ্যমে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ওইসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের হেফাজতে থাকা অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আ ন ম শামসুর রহমান মিন্টু, বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক শামসুজজোহা বাদশা সরকার, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপি'র সাবেক আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বল্টু, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বাবু, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার সৈয়দ আলী ও হামিরকুটসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেনসহ উপজেলা এবং ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌরসভা এমপি, যুবদল ও ছাত্রদল সহ দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া হামলার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল দুপুরে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়া এই মিছিলটি পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিল থেকেও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ককটেল হামলার জন্য আ. লীগকে দায়ী করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান রোববার বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com