ফেনীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের তিন দিন পর হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সদস্যসচিব ও জুলাই যোদ্ধা মো. আবদুল্লাহ আল আমিন (৩০)।
ফেনী সদর উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওই এলাকার একটি ঝোপ থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে। এ সময় তার শরীর ও হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
এর আগে আল আমিনের নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচি কামরুন নাহার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২১ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজীর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আল আমিন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
আল আমিন সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের উত্তর মঙ্গলকান্দি গ্রামের লকুর দোকানসংলগ্ন আলী আজ্জম মৃধা বাড়ির মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।
তার চাচা আবদুল্লাহ আল নোমান জানান “আল আমিনকে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আমাদের খবর দেয়। পরে তাকে জরুরিভাবে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হওয়ার পর কারা এবং কেন তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যেতে পারে।’
মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদল নেতা দাউদুল ইসলাম মিনার জানান, আল আমিন গেজেটভুক্ত একজন জুলাই যোদ্ধা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই সময় তার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান।
উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন আল আমিনকে অপহরণ করে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ফেনীর সহকারি পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান নিখোঁজ আল আমিনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানান, তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করার পর পুলিশি তৎপরতা চালালে অপরাধীরা তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে যায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক: হুমায়ুন কবির রনি
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৩০৫১৪
ইমেইল: onnews24@gmail.com
www.onnews24.com